মাধবপুর প্রতিনিধি | ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
হবিগঞ্জ শহরের একতা ফেব্রিক্সের কর্মচারী সন্তোষ চৌধুরী হত্যা মামলার প্রধান আসামী সাইদুর রহমান(৩২) কে গ্রেফতার করেছে মাধবপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত(ওসি)সাজেদুল ইসলাম পলাশের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইল কল লিস্টের সূত্র ধরে বি-বাড়ীয়া জেলার জামতলী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্তোষ চৌধুরী হত্যা মামলার প্রধান আসামী ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর উপজেলার ধারাকান্দি গ্রামের আঃ মন্নাফের পুত্র সাইদুর রহমান(৩২)কে গ্রেফতার করেন।
শুক্রবার দুপুরে হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতের হাজির করলে সে হত্যা কান্ডে নিজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে বলে স্বীকারউক্তি মূলক জবান বন্দি দেন। মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর সকালে হবিগঞ্জ শহরের ঘাটিয়া বাজার এলাকার একতা ফেব্রিক্সের কর্মচারী আজমিরীগঞ্জের জিলুয়া গ্রামের মনোরঞ্জন চৌধুরীর ছেলে সন্তোষ চৌধুরী মালিকের কাপড় কেনার জন্য নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পরদিন ২০ ডিসেম্বর স্থানীয় লোকজন গলায় মাফলার প্যাঁচানো অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ উপজেলার নয়াপাড়া সায়হাম কটন মিল এলাকা পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির (এসআই) সুহেল রানা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠালে সন্তোষের স্বজনরা তার লাশ সনাক্ত করে । এ ঘটনায় সন্তোষ চৌধুরীর ভায়রা ভাই তপন দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী দিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ দিন মামলাটি তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সুহেল রানা তদন্ত করে খুনিদের গ্রেফতারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে আলোচিত এই হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার এবং হত্যা কান্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করায় মাধবপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত(ওসি)সাজেদুল ইসলাম পলাশকে ৭ হাজার টাকা পুরষ্কার প্রদান করেন হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জয় দেব কুমার ভদ্র ।
মাধবপুর থানা পরিদর্শক তদন্ত সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন,অল্প কিছু দিন হল বদলী জনিত কারণে আমি এ থানায় যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকেই আলোচিত এই হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন ও খুনিকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে বৃহস্পতিবার মোবাইল কল লিস্টের সূত্র ধরে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে । খুনি আদালতে হত্যাকান্ডে নিজে সরাসরি অংশ গ্রহণ করেছে বলে স্বীকারউক্তি মূলক জবানবন্দি দেন। এ হত্যাকান্ডে তাকে আরও দুজন সহযোগিতা করেছে বলে সে স্বীকার করেছে। হত্যাকান্ডে সহযোগীতাকারী দুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।