নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
সিলেটের তামাবিল শুল্ক বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ভারতের জ্বালানি তেল ও গ্যাসবাহী লরির প্রথম চালান। সিলেটের সড়ক পথ ব্যবহার করে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হবে এসব তেল ও এলপিজি গ্যাস।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ভারতের মেঘালয় থেকে সিলেটের গোয়ানইঘাট উপজেলার তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ৯ টি তেলবাহী ও একটি গ্যাসবাহী লরি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
এরপর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল সাড়ে ৫ টায় জ্বালানী পরিবহনের এই গাড়িগুলো সিলেটের সড়কপথ দিয়ে মৌলভীভাজারের চাতলাপুর শুল্ক স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এই শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাসহরে যাবে তেল ও গ্যাস।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় ট্যাংকারগুলো উত্তর আসামের বঙ্গাইগাঁও থেকে যাত্রা করে মেঘালয়ের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে সিলেটের তামাবিল-মৌলভীবাজারের চাতলাপুর হয়ে প্রায় চার ঘণ্টায় ১৩৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর ত্রিপুরার কৈলাসহরে ঢুকবে।
ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল সরবরাহের পর খালি যানবাহনগুলো বাংলাদেশের চাতলাপুর চেকপোস্ট হয়ে একই পথে ভারতে ফিরে যাবে। এসব পণ্য ৪০০ কিলোমিটারের বেশি পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ত্রিপুরায় নিতে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। তাছাড়া মেঘালয় ও দক্ষিণ আসাম হয়ে জাতীয় মহাসড়কের অবস্থাও খারাপ। সম্প্রতি ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ভূমিধসের কারণে আসাম থেকে ত্রিপুরাগামী সড়কপথ (এনএইচ-৪৪) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রিপুরার সঙ্গে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ত্রিপুরা রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
তামাবিল শুল্ক স্টেশনের ইমিগ্রেশন অফিসের ইনচার্জ এসআই রুনু মিয়া জানান, তেলবাহী লরির প্রতিটিতে ৯ টন তেল গ্যাসবাহী লরিতে ৭ টন গ্যাস রয়েছে।
তিনি বলেন, বন্যায় ভারতের আভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় সাময়িকভাবে বাংলাদেশের সড়ক পথ ব্যবহার করা হচ্ছে। আজ মেঘালয়ের ডাউকি সীমতান্ত দিয়ে ঢুকে ১০ টি লরি ত্রিপুরায় নিয়ে যাওয়া হবে। ঈদের পর আরো জ্বালানী পরিবহান করা হবে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বাংলাদেশের সড়ক পথ ব্যবহার করে ভারতের এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে জ্বালানী পরিবহনের জন্য গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সঙ্গে ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটিডের (আইওসিএল) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত (এমওইউ) সই হয়।
ওই চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতীয় জ্বালানি তেলবাহী ট্রাক-লরি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রিপুরায় যাতায়াত করবে। তবে এক্ষেত্রে ভারতকে সড়কের ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বাবদ নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
শনিবার বিকেলে তামাবিলে ভারতীয় জ্বালানী পরিবহনকারী গাড়ি প্রবেশকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম, তামাবিল শুল্ক বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট কর্মকর্তা মোঃ রুনু মিয়া, ভারতীয়দের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মেঘালয়ের সড়ক বিভাগের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক অসিম পাল চৌধুরীসহ কর্মকর্তাবৃন্দ।
সিলেটের সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংক লরি পরিবহনে বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করতে প্রত্যক কিলোমিটারে প্রতি টনে ১.০২ পয়সা করে ভারতীয়রা শুল্ক প্রদান করবে।