বানিয়াচং প্রতিনিধি | ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। তাই শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছে বানিয়াচংয়ের কামাররা।
ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অবিরামভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। সারা বছর তেমন একটা কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদে কাজ একটু বেশী।
জানা যায়, বানিয়াচংয়ে এক সময় এ শিল্পকর্মের খুব সুনাম ছিল। সেই সূত্র ধরে বানিয়াচংয়ে কামারদেরও ছিল ব্যাপক চাহিদা।
উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করতেন কামাররা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সমান তালে লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠতো কামারপট্টিগুলো। এখন আর তেমনটি দেখা যায়না। বর্তমানে লোহার বাজারমূল্য ও ব্যবসা মন্দা থাকায় কামাররা এখন আর এ কাজের সাথে নিজেদের জড়াচ্ছে না। যারা আছেন তারাও অনেক অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সরেজমিনে গ্যানিংগঞ্জ বাজার, বড়বাজার, আদর্শ বাজার ঘুরে দেখা যায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন দম ফেলার ও সময় নেই কামারদের। দিনরাত একাকার করে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মাল দিতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় বাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলোকে পুড়িয়ে হাতুড়ি ও হ্যামার দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে দা, বটি, চাপাতি, ছুরিসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করছেন কামাররা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ শিল্পের বাজার। তারা লোহার সরঞ্জাম তৈরি করে উপজেলার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পাঠাচ্ছেন।
কামার শিল্পী দুলাল কর্মকার বলেন, বর্তমানে মেশিনের সাহায্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। এখন আর আমাদের হাতের তৈরি সরঞ্জামাদির প্রতি কোন চাহিদা নেই। আগে আমাদের সারা বছর অনেক কাজ থাকতো। কিন্তু এখন অনেক মন্দা সময় পার করতে হচ্ছে।
লোহার তৈরি ধারালো সরঞ্জামাদির ব্যবসায়ী রতন কর্মকার বলেন, আমাদের বাপ দাদার পেশা বলে শত কষ্টের মধ্যেও এ ব্যবসা ধরে রেখেছি। সারা বছর তেমন কোন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদে আমাদের চাহিদা বেড়ে যায়। আমরা এই যন্ত্রপাতি বানানোর জন্য বাহির হতে লোহা ও কয়লা কিনে আনি । বর্তমানে লোহা ও কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় আমাদের তেমন একটা লাভ হয়না।