আনোয়ার হোসেন আনা, ওসমানীনগর | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
টানা প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন সিলেটের ওসমানীনগরবাসী। বিদ্যুতের এই দুরবস্থার কারণে ঈদে আনন্দে ভাটা পড়েছে এলাকার মানুষের। চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাজার হাজার ব্যবসায়ী। কর্তৃপক্ষের অবহেলা নাকি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে বিদ্যুতের এই দূর্ভোগ তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঈদের আগের দিন (সোমবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। এর পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বিদ্যুৎ পাওয়া যায়নি। বিপণী বিতানসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিল তখন ক্রেতাদের ভিড়। বিদ্যুৎ যাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা আইপিএস গুলোরও চার্জ শেষ হয়ে গেলে বাজারে নেমে আসে অন্ধকার।
এতে অনেক মানুষ ক্রয় করতে পারেননি ঈদের জন্য পছন্দসই কাপড়। ব্যবসায়ীরাও বিক্রি করতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়েন। ঈদের আগের দিন রাতে এলাকার সেলুন গুলোতে চুল দাড়ি কাটার জন্য থাকে উপচে পড়া ভিড় কিন্তু বিদ্যুতের কারণে নরসুন্দররা কাজ করতে পারেন নি। নতুন কাপড় ক্রয় করতে না পারা এবং চুল দাড়ি কাটতে না পারায় ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এলাকার অধিকাংশ লোক।
বিদ্যুতের কারণে একে অন্যের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় থেকেও বঞ্চিত এলাকার মানুষ। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীনতার কারণে তথ্য মানুষের হাতে থাকা তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম মুঠো ফোন গুলো চার্জের অভাবে বন্দ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ হীনতায় নির্ঘুম রাত কেটেছে এলাকাবাসীর। এছাড়া আবাসিক এলাকা গুলোতে পানির দূর্ভোগতো আছেই। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের কারণে ওসমানীনগরবাসীর নিরানন্দ ঈদ কেটেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সকাল সোয়া ৯টা) বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এলাকাবাসী। এব্যাপারে একাধিকবার চেষ্টা করেও দায়িত্বশীল কারো সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
গোয়ালাবাজার বণিক সমিতির সভাপতি মিফতা রাজা চৌধুরী বলেন, বিদ্যুতের কারণে ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। নিরানন্দন ঈদ কেটেছে এলাকাবাসীর।
স্থানীয় আবদুল মতিন বলেন, বিদ্যুতের দূর্ভোগের কারণে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে এলাকাবাসী। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন এমনটি হয়েছে উল্লেখ করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।