শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অন্যন্য উদাহরণ সৃষ্ঠি করেছেন হবিগঞ্জের একদল সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ।
সকালের ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে হবিগঞ্জের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সনাতন ধর্মের ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর হিসেবে হবিগঞ্জের পরিচিতি রয়েছে। তারই সুনাম রক্ষায় এবার কেউ যাতে সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড না ঘটতে পারে ও নির্ভয়ে যেন মুসলমানরা নামাজ পড়তে পারেন সেজন্যই তাদের এই উদ্যোগ।
৬০জন স্বেচ্ছাসেবক সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে ঈদগাহের সামনে শায়েস্তানগর পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। আইনজীবি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, ছাত্রসহ প্রায় সকল শ্রেণী পেশার মানুষ ছিলেন ৬০ জনের এ সেচ্ছাসেবক দলে।
"পূজা উদযাপনের জন্যও কোনো দিন সকালে ঘুম থেকে উঠিনি। কিন্তু আজ সকাল সাড়ে ৬টায় হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করতে সবার সাথে মিলিতি হয়েছি। কাজটা করে অসম্ভব একটা প্রশান্তি পেয়েছি মনে। আমাদের মুসলমান ভাইয়েরা যেন কোনো আতংক আর ভয় ছাড়া তাদের নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।"
এই কথাগুলো বলেন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালনরত পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তুষার মোদক।
পূজা উদযাপন পরিষদের বিভাগীয় সম্পাদক শঙ্খ শুভ্র রায় সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন , "সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি অটুট থাকার জন্য আমাদের এই উদ্যোগ। শান্তিপূর্ণ ভাবে আমাদের মুসলমান ভাইয়েরা তাদের নামাজ আদায় করতে পেরেছেন এইজন্য খুব ভালো লাগছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা একই শহরে বাস করি। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হিন্দু মুসলমান সবার সাথে কাজ করতে হয়। শুধু ধর্মের দোহাই দিয়েতো আমরা আমাদের দায়িত্ব এড়াতে পারবো না। আজকে যা করেছি সে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পরবো না। তবে হবিগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটা নতুন অধ্যায় তৈরি করতে পেরেছি এই জন্য ভালো লাগছে।"
গত শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সেচ্ছাসেবক বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সব মসজিদ ও ঈদগাহ কমিটির নেতাসহ খতিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমরান হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির।
এই সভার পর আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর আহবানে সাড়া দেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।