নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
সীমান্ত বেষ্টিত অঞ্চল সিলেট। প্রতিবার ঈদুল আজহায় চামড়া পাচারে তৎপর হয়ে ওঠে ‘মৌসুমী’ ব্যবসায়ীরা। পাচারকারীরা কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাতকৃত চামড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করে থাকেন।
সিলেটের ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগ নতুন নয়। এবার সেই ‘মৌসুমী’ চামড়া পাচারকারীদের ঠেকাতে একাট্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহার সময় চামড়া পাচারকারীরা সিলেটে অবস্থান নেয়। তারা বিভিন্নভাবে চামড়া সংগ্রহ করে ভারতে পাচার করে থাকে। সেই সঙ্গে সিলেটের বাইরের কতিপয় পাইকার পশু বিক্রির পর সিলেটে অবস্থান নিয়ে ঈদের দিন কাঁচা চামড়া ক্রয় করে থাকেন।
চামড়া পাচার রোধে এরই মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া সিলেট থেকে কাঁচা চামড়া দেশের অন্যত্র যাওয়া বন্ধ করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। চামড়া পাচার রোধে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছমির উদ্দিন বলেন, সিলেটের সীমান্ত দিয়ে কোরবানির চামড়া যাতে পাচার হতে না পারে, এ ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর বলে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন।
তিনি বলেন, চামড়া ব্যবসায়ীদের আইডি কার্ড ছাড়া বহিরাগত কেউ যাতে চামড়া ক্রয় করতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে। তবে মহানগরীর নির্ধারিত স্থান ছাড়া যেখানে সেখানে চামড়া ক্রয়-বিক্রয় করতে না পারে, সে ক্ষেত্রে এসএমপি পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা বলেন, জেলার সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে চামড়া পাচার রোধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চামড়াবাহী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এমনকি রিকশা, ভ্যান সীমান্তের দিকে যেতে দেখলে আটকের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ বলেন, মহানগরীর কোনো চামড়া যাতে নগরীর বাইরে না যায়, সে ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন তৎপর থাকবে। চেকপোস্ট থাকবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে।
তিনি বলেন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া কোরবানির চামড়া অন্যত্র নেওয়া হলে তা পাচারের আশংকা থাকে। সে কারণে লবণজাতকরণের পর শুধু দক্ষিণ সুরমা থেকে ঢাকার ট্যানারিগুলোতে চামড়া নিয়ে যেতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।
ঈদুল আজহায় পশুর চামড়া পাচার ঠেকাতে সতর্ক থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জওয়ানরা।
বিজিবি-৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মহি উদ্দিন খোন্দকার বলেন, বিজিবি সিলেটের সব ক’টি সীমান্ত ফাঁড়িতে চামড়া পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনো সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার না হতে পারে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে তামাবিল পয়েন্ট ও সীমান্তের বিভিন্ন চোরাই পয়েন্ট দিয়ে চামড়া পাচার ঠেকাতে সতর্ক থাকবে বিজিবি।