তপন কুমার দাস, বড়লেখা : | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সব পর্যটন স্পটগুলো। টানা ঈদের ছুটিতে পাহাড়, হাওর, ঝর্ণা ও বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি উপভোগ করতে হাজার হাজার পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় এখন বড়লেখায়। প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক পেয়ে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আকর্ষণীয় স্থানে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর পাহাড় আর হাওর বেষ্টিত মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় গাছপালা, হাওর, ঝর্ণা আর নীল আকাশের সঙ্গে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবন ও সংস্কৃতি। এসব কারণেই পর্যটকদের কাছে এখন আকর্ষণীয় স্থান বড়লেখা উপজেলা।
দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড -, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ চা বাগান, আকাশস্পর্শী পাথরিয়া পাহাড়ের বুক চিরে বেরিয়ে আসা ফুল ঢালনি ঝেরঝেরি আর ইটাউরি ফুলবাগিচা ও নয়নাভিরাম হাকালুকি হাওর পর্যটকের মন ও দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে। বয়সের ভেদাভেদ ভুলে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটি প্রাণে। এখানকার উন্মুক্ত বাতাস, সবুজ প্রকৃতি আর অনেকটা অজানা ঐতিহাসিক নিদর্শন শহরের ক্লান্ত মানুষকে কাছে টেনে নিচ্ছে।
সরেজমিনে মাধবকুণ্ড বন বিভাগ, ইজারাদার ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলে জানা জানা যায়, ঈদের দিন থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস এবং বাস বোঝাই করে মাধবকুণ্ড - জলপ্রপাত দেখতে ভিড় করছেন ভ্রমণ-প্রিয় মানুষেরা। লোকে লোকারণ্য মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকা। পর্যটকের আগমনে হাসি ফুটে উঠেছে পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীদের মাঝে।
ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার পর্যটকের সংখ্যা ছিল কম। এদিন প্রায় ৭’শত পর্যটকের আগমন ঘটে, পর দিন বুধবার প্রায় ৪ হাজার ও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে এ জলপ্রপাতে। এবার ঈদ বর্ষাকালে হওয়ায় ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা ভিড় করেছেন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে। প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, বিশাল পাহাড়, শ্যামল সবুজ বনরাজি বেষ্টিত ইকোপার্ক, পাহাড়ি ঝরনার প্রবাহিত জলরাশির কলকল শব্দ সবমিলিয়ে মাধবকুণ্ড বেড়াতে গিয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা।
মাধবকুণ্ডে সপরিবারে সিলেট থেকে বেড়াতে আসেন গণমাধ্যমকর্মী নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে অন্য কোথাও না গিয়ে মাধবকুণ্ডে বেড়াতে এসেছেন। এখানকার সবুজ পাহাড়-সর্পিল মেঠো পথ-চপলা ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তিনি মুগ্ধ। যে কারণে বারবার মাধবকুণ্ডের প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের আগমন ঘটে বলে তিনি মনে করেন।
বৃহস্পতিবার গিয়ে মাধবকুণ্ড পর্যটন কেন্দ্রে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিনকে পরিষদের চৌকিদারদের নিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে তদারকি করতে দেখা গেছে।
পর্যটকদের চিত্ত বিনোদনের জন্য মাধবকুণ্ড পর্যটন কর্পোরেশনের নির্মাণ করা হাতি, পেঙ্গুইন, মৎস্য কন্যা, বাঘ, ভালুক, বক, ঈগল পাখি, কুমির, বানর ইত্যাদির ভাস্কর্য আগত শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীকে বাড়তি আনন্দ প্রদান করছে।
এদিকে এবারের ঈদ বর্ষাকালে হওয়ায় এশিয়ার বৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওরের নয়নাভিরাম দৃশ্য, পাথারিয়া পাহাড়ের বুক চিরে বেরিয়ে আসা ফুল ঢালনি ঝেরঝেরি আর ইটাউরি ফুলবাগিচা দেখতে দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে। হাওরের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য বন বিভাগের নির্মাণ করা ওয়াচ টাওয়ার, জল সিঁড়ি দৃষ্টি কেড়েছে সবার।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, মাধবকুণ্ডে জলপ্রপাতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।