নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চাঞ্চল্যকর শিশু ইমন হত্যা মামলা সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে উঠেছে।
৭ আসামীর মধ্যে গ্রেফতারকৃত ৬ জনকে প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলো। ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন ৩ অক্টোবর। ওইদিন চার্জ গঠন হতে পারে।
এদিকে সোমবার আদালতের বিচারক মকবুল হোসেন কারাগারে থাকা ৪ আসামীর মধ্যে বাচ্চু নামের এক আসামীর জামিন মঞ্জুর করেছেন। এছাড়া জামিনে থাকা অপর দুই আসামী কাহার ও নুরুল আমিনের জামিন বহাল রেখেছেন।
পলাতক আসামী সালেহ আহমদ ছাড়া ৬ আসামী জামায়াত নেতা সুয়েবুর রহমান সুজন, বাচ্চু, জায়েদ, রফিক, কাহার ও নুরুল আমিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
প্রথমদিন মামলার শুনানীকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কিশোর কুমার কর শিশু ইমন হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্নের আবেদন করেন। তিনি সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আদালতকে অবগত করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী শমিউল আলম জানান, প্রথমদিন আদালতে আসামীদের উপস্থিত করা হয়েছে। জামিনে থাকা দুইজন আসামীর জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত জামিন বহাল রেখেছেন। আগামী ধার্য তারিখে মামলার চার্জ গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহুর আলীর ছেলে ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর ছাত্র ছিল ইমন। ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ তাকে অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপণের দু’লক্ষ টাকা না পেয়ে অপহরণকারীরা শিশু ইমনকে হত্যা করে।
৮ এপ্রিল মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে কদমতলী বাসষ্ট্যান্ড থেকে শিশু ইমনের হত্যাকারী ঘাতক ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিষের বোতল ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করে। এমনকি বাতিরকান্দি হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি ও হাতের হাড় উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত ইমনের বাবা জহুর আলী বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছাতক থানায় মামলা (নং-৩২) করেন। চলতি বছরের ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের জন্য গেজেট প্রকাশ করে। ফলে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকেই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হলো।
বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি ও সুবিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন নিহত শিশু মোস্তাফিজুর রহমান ইমনের পিতা ও মামলার বাদী জহুর আলী।