শাল্লা প্রতিনিধি | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
শাল্লা সদর উপজেলায় ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে ১৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই।
এর প্রতিবাদে স্থানীয় ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের ব্যবসায়ীরা সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্ধ দিবস হরতাল পালন, মিছিল, মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন।
স্থানীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কিছু দিন পূর্বে আমরা ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি আর.ই সাহেবকে আমাদের ট্রান্সফরমারটি পরিবর্তন করার জন্য। উক্ত টাকা দেয়া হয়েছে আর.ই সাহেবের আস্থাভাজন লোক আঙ্গুর মিয়ার মাধ্যমে। কিন্তু ২-৪ দিন যেতে না যেতেই ফের বিকল হয়ে পড়েছে সেই ট্রান্সফরমারটি। আজ ১৫ দিন যাবত আমরা রয়েছি অন্ধকারে। এ ব্যাপারে বার বার আর.ই সাহেবের নিকট ধরনা দিয়ে কোন সুফল পাচ্ছি না।
বাজার কমিটির সম্পাদক সুরিব সরকার পান্না বলেন, আর.ই সাহেবকে অনেক স্যার স্যার বলেছি। এবার স্যার নয়, এবার অধিকার আদায় করতে হবে আন্দোলনের মাধ্যমে। আজ হরতাল, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করেছি। যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শাল্লায় বিদ্যুৎ না আসে তাহলে আমরা আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবো।
এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, আর.ই সাহেব অথবা বিদ্যুৎ অফিসের কোন কর্মচারী অত্র শাল্লা উপজেলা চেনেন না। পিডিবি কর্মকর্তা আঙ্গুর মিয়াকে শাল্লায় আর.ই হিসেবে পরিণত করেছেন। অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে শাল্লার জনজীবন অতিষ্ঠ।
ব্যবসায়ী মো. কোরশেদ আলম বলেন আমরা শাল্লাবাসী প্রকৃত পক্ষে নির্যাতিত। আমরা সারাজীবন শুধু হুজুর হুজুর করেছি, কোন অধিকার পাইনি।
এ ব্যাপারে দিরাই-শাল্লার আবাসিক প্রকৌশলী আওলাদ হোসেনের সাথে ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে মোবাইল ফোনে আলাপ হলে তিনি বলেন, আমি কোন টাকা নেইনি। তবে শাল্লা উপজেলা অনেক দূরবর্তী হওয়ায় তারা খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা ব্যয় বহন করেছেন। বিদ্যুৎ অফিসের কোন কর্মচারী শাল্লায় দেবেন কি না এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন জনবল খুবই কম, তবে বিষয়টি আমার মাথায় আছে।
আর অপর দিকে সকল ব্যবসায়ীদের দাবি নতুন ও শক্তিশালী ট্রান্সফরমার স্থাপন, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সার্ভিস, নির্ধারিত সময়সীমায় লোডশেডিং, শাল্লায় বিদ্যুৎ অফিস স্থাপন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ।