সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
"করেছি অনেক অবিচার, অনেক অপমান / ক্ষমা করে দাও হে নদী / আজ নাও আমাদের পুস্প সম্মান"- এই শ্লোগানে বিশ্ব নদী দিবসকে সামনে রেখে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিয়া নদীকে পুষ্প সম্মাননা জানানো হয়েছে ।
দখলে-দূষণে বিপন্ন বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা নদী বাসিয়া। যা নাব্যতা হারিয়ে মৃতপায়। নদীর দু-পাশে অবৈধ স্থাপনা নদীকে সংকোচন করেছে । প্রতি বছর দখলবাজরা নদী পাড়ে নতুন নতুন টংঘর তৈরি করে । প্রশাসনের নিরবতায় একসময় বেড়া দিয়ে পাকা-আধা পাকা ঘর নির্মাণ করে স্থায়ী স্থাপনা তৈরি হতে থাকে ।
শুক্রবার বেলা ১২ ঘটিকায় বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে বাসিয়া ব্রিজে আন্তর্জাতিক নদী বিষয়ক সংগঠন সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও বেসরকারী সংগঠন অঙ্গিকার বাংলাদেশ যৌথভাবে বাসিয়া নদীতে ফুলের পাপড়ি ফেলে 'নদীকে পুষ্প সম্মাননা' জানায় ।
'বাসিয়া নদীকে পুস্প সম্মাননা' জানানো শেষে বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ-এর আহবায়ক ফজল খান-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সভায় সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য নদীর মত বাসিয়া নদীও নাগরিকদের অপমান-অবিচারের শিকার। পানির বদলে নদীর বুক ভর্তি ময়লা-আবর্জনার স্তূপ । আর্বজনা ফেলার বিকল্প জায়গা না থাকায় নদীতেই ময়লা ফেলা হচ্ছে । বাসাবাড়ি ও দু’পাড়ের ব্যবসায়ীদের ফেলা বর্জ্যে ভরে উঠছে নদী। সামান্য বৃষ্টিতে মনে হয় চলমান ডাস্টবিন। নদীতে আবর্জনা ফেলা নদীকে অপমান করা । নদী আমাদের অশেষ দান করে যাচ্ছে । তাই নদীর সাথে করা এমন অবিচারের জন্য নাগরিকদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতেই আজকের এ কর্মসূচী।
স্থানীয় নাগরিকদের বাসিয়া নদীরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে আব্দুল করিম কিম আরও বলেন, নদীতে ফুল দিয়ে অন্তর থেকে সম্মাননা জানানো হয়েছে । এখন বাসিয়া নদীর দখল ও দূষণরোধে স্থানীয় মানুষকে সচেতন হতে হবে । নদী সুস্থ থাকলে নগর সুস্থ থাকবে, বাজার সুস্থ থাকবে, সামগ্রিক পরিবেশ সুস্থ থাকবে । 'নদীকে পুষ্প সম্মাননা' প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংবাদকর্মী প্রত্যূষ তালুকদার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেটের সংগঠক বদরুল ইসলাম চৌধুরী, বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ-এর যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব আলম এমরান ও শামসুল ইসলাম মুমিন, রাজা মিয়া, শাহজাহান প্রমুখ ।
উল্লেখ্য প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রবিবারে 'বিশ্ব নদী দিবস' পালন করা হয় । নদী বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ১৯৮০ সাল থেকে ব্রিটিশ কলম্বিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এই দিবস পালনের সুচনা করে । এরপর ২০০৫ সাল থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা দিবসটি পালন করা শুরু করে । বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে থেকে রিভারাইন পিপল নামের একটি সংস্থা এ দিবস পালন করে আসছে। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ দিবসটি অনুসমর্থন করে। এ বছর বাংলাদেশে দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারন করা হয়েছে 'সুস্থ নদী, সুস্থ নগর' । আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর রবিবার 'বিশ্ব নদী দিবস'কে সামনে রেখে 'অঙ্গিকার বাংলাদেশ' দেশের একাধিক 'নদীতে পুষ্প সম্মাননা' কর্মসূচি পালন করে । এবছর সিলেটে সুরমা ও বাসিয়া নদীতে আয়োজিত কর্মসূচীতে সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার সহ-আয়োজক হয় ।