শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ | ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
হবিগঞ্জের নদীগুলো দিন দিন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। খোয়াই, সুতাং ও পুরাতন খোয়াই নদীর উপর চলছে বিভিন্ন ধরণের অত্যাচার। একদিকে নদীর বুক থেকে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও নদী দখল। অন্যদিকে শিল্প-কারখানার বর্জ্য ফেলে দূষিত করা হচ্ছে সুতাং নদীকে। তাই অবিলম্বে নদী ও জলাশয় দখল এবং দূষণের জন্য দায়ী ব্যক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর রবিবার বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার আয়োজিত ‘নদী তীরবর্তী সমাবেশ’-এ বক্তারা এ কথা বলেন।
‘সুস্থ নদী, সুস্থ নগর’ এই শ্লোগান নিয়ে বাপা হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোঃ ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশের শুরুতে ধারণা বক্তব্য উপস্থাপন করেন খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার ও বাপা হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল। আরও বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ বাপা’র সহ-সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সংস্কৃতিকর্মী মুজিবুর রহমান, পরিবেশকর্মী আহসানুল হক সুজা, মীর সজল, মুক্তাদির হোসেন, রুবেল আহমেদ, শেখ ওসমান গণি রুমী, তাছলিমা জাহান, মাহমুদুল হাসান মুফতী প্রমুখ।
নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেরামত আলী, শেখ আজিজুল ইসলাম, রুমন মিয়া, জুয়েল মিয়া, আমির আলী, জাহির মিয়া মাঝি, রমিজ আলী মাঝি, আব্দুছ ছমেদ মাঝি, সাহেব আলী মেম্বার, আব্দুস সালাম মাঝি প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন বাপা হবিগঞ্জ শাখার যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকী হারুন।
খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল তার বক্তব্যে বলেন, হবিগঞ্জ শহরের গরুর বাজার এলাকার পশ্চিমদিকে খোয়াই নদীতে একটি নৌকাঘাট ছিল। শত শত বছর ধরে নৌকাঘাটটি থেকে প্রতিদিন দেড় শতাধিক নৌকা আদমপুর, অষ্টগ্রাম, মাদনা, ইকরাম, সুজাতপুর, বাজুকা, চানপুর, কাশীপুর, বুল্লা ইত্যাদি এলাকায় হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন হত। গত ২ বছর ধরে নৌকাঘাটটি বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ যে জায়গাটিতে নৌকাঘাট ছিল, খোয়াই নদীর ওই অংশটুকুর গতিপথই বদলে গেছে। গরুরবাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খোয়াই নদীর অংশটি অনেক দূর সরে গেছে। নৌকা ঘাটের কাছ থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার কারণে এমনটি হয়েছে। এছাড়া শহর এলাকায় বয়ে চলা খোয়াই নদীতে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানসহ কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ অহরহ ময়লা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করেছে। এ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।