কানাইঘাট প্রতিনিধি | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
কানাইঘাটে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে লাশ হলেন ইমরান হোসেন (২৫)। পাঁচদিন পর প্রেমিকার বাড়ির পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার মধ্যরাতে প্রেমিকার বাড়ির পুকুর থেকে ইমরানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রেমিকাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। পেশায় ইমরান হোসেন একজন দর্জি।
নিহত ইমরান উপজেলার সদর ইউপির সোনাপুর গ্রামের পোস্ট মাস্টার মো. আবু বক্করের ছেলে। পেশায় দর্জি ইমরান কানাইঘাট পৌর শহরের চয়েস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সুহাদা বেগমের ভাই ইমরান আহমদ ও নিকটাত্মীয় জাহাঙ্গীর মোটরসাইকেলযোগে প্রেমিক ইমরান হোসেনকে নিয়ে সুহাদার স্বামীর বাড়িতে যান। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ইমরান।
দুই দিন পর ইমরানের বাবা আবু বক্কর কানাইঘাট থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুহাদা বেগম, তার দেবর মাসুম আহমদ ও নিকটাত্মীয় জাহাঙ্গীর আহমদকে আটক করেন। তাদের স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ইমরান হোসেনের প্রেমিকা সুহাদা বেগমকে শুক্রবার বিকেলে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান হোসেন হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন ও মরদেহ গুম করার কথা স্বীকার করেন সুহাদা বেগম। সোমবার রাতেই ইমরান হোসেনকে হত্যার পর মরদেহ গুম করতে চটের বস্তায় ভরে পুকুরে গাছের শেকড়ের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
এ জবানবন্দির সূত্র ধরে শনিবার রাতে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সুহাদার শ্বশুড়বাড়ির পুকুর থেকে ইমরান হোসেনের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। পরে ইমরান হোসেনের মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, প্রবাসী বদরুল ইসলামের স্ত্রী সুহাদা বেগমের সঙ্গে ইমরানের পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে এই খুনের ঘটনাটি ঘটে। সুহাদার বিয়ের আগে থেকেই ইমরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিলো। সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে প্রেমিকা সুহাদা বেগম (২১), তার ভাই ইমরান আহমদ, দেবর মাসুম আহমদ ও জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করা হয়।