নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ এপ্রিল, ২০১৫
থানায় ধরে ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের মামলায় জেলে যেতেই হলো সিলেট কতোয়ালি থানার বহিস্কৃত ওসি আতাউর রহমানকে। আজ আদালতে আত্মসমর্পন করলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই নির্যাতেনর ঘটনার প্রেক্ষিতেই ওসির দায়িত্ব থেকে বহিস্কার করা হয়েছিলো আতাউরকে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট মহানগর হাকিম ১ম আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করেন আতাউর। বিচারক শাহেদুল করিম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
গত বছরের ১৭ জুলাই সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার মেয়র কালাম চৌধুরীর ভাই ব্যবসায়ী কামাল আহমদ চৌধুরীকে নগরীর নয়াসড়ক থেকে ধরে এনে থানায় নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে বহিস্কৃত ওসি আতাউর রহমানসহ এই থানার আরো ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের অভিযােগে কামাল আহমদ চৌধুরীর ছোট ভাই ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শামীম আহমদ চৌধুরী মামলা করতে চাইলেও পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড হয়। পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছেও আতাউরসহ আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী কামলা আহমদ চৌধুরী।
পুলিশের আভ্যন্তরীন তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত বছরের ২৭ জুলাই ওসি আতাউর, ওসি (তদন্ত) শ্যামল বণিক, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম, সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবু তাহের, কনস্টেবল অধিরচন্দ্র, রাজিব কান্তি দাস, আজাদুর রহমান ও নাজমুল হোসেনকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়। এরপরপরই আত্মগোপনে চলে যান আতাউর।
আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেন। তবু আতউরকে খোঁজে পায়নি পুলিশ। অবশেষে সোমবার হঠ্যাৎ করেই আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন এক সময়ের দাপুটে ওসি আতাউর। আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
সোমবার আদালতে আসামী পক্ষে আদালতে শুনানীতে অংশ নেন এডভোকেট টিপু, জসিম উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন ও ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী। বাদী পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট আবদুল খালিক।