নবীগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৪ অক্টোবর, ২০১৬
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের ছবি ব্যঙ্গ করে পোস্ট ও শেয়ার করায় সেলিম আহমেদ (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) তাকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
আটককৃত সেলিম আহমেদ নবীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সামারগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আটক সেলিম জামায়াত-শিবিরের সমর্থক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশে ও প্রবাসে থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে কটূক্তি করে ও ছবি ব্যঙ্গ করে ফেইসবুকে প্রচার করে আসছিলেন। ফেইসবুকে এসব কর্মকান্ড দেখে নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহি দেওয়ান চৌধুরী বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, সেলিম আহমেদ প্রায় ৭/৮ বছর পূর্বে নবীগঞ্জ শহরে মোবাইল সার্ভিসিং এর ব্যবসা করতেন। এরপর তিনি ব্যবসা গুটিয়ে বিদেশ চলে যান। কয়েক বছর বিদেশে থাকার পর বাংলাদেশে ফেরেন সেলিম। বর্তমানে তিনি উপজেলার কাজিরগাঁও বাজারে সাইফ টেলিকম নামক একটি দোকান দিয়ে ব্যবসা করছেন।
সম্প্রতি সেলিম আহমেদের নিজ নামের ফেইসবুক আইডিতে জামায়াত-বিএনপির সমর্থনকারী বিভিন্ন আইডি-পেজে সরকার বিরোধী বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও কটূক্তিকর পোষ্ট শেয়ার করে আসছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন পোষ্ট দেখে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ আওয়ামী আদর্শের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এসব পোষ্ট দেখে মামলার বাদি পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহি দেওয়ান চৌধুরী স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বাতেন খাঁনকে অবহিত করেন। এরপর বিবাদীর ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে ফোন করে সেলিম আহমেদকে থানার আসার জন্য বললে সেলিম সোমবার বিকেলে স্বেচ্ছায় থানায় আসেন। জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম আহমেদ আইডিটি তার নিজের বলে স্বীকার করলে তাকে আটক করা হয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এর ৫৭ ধারায় মামলা দায়েরের পর সেলিম আহমেদকে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার সেলিম এ প্রতিবেদককে বলেন, আইডিটা তার হলেও পোষ্টগুলো তিনি শেয়ার করেননি। তার স্ত্রী ও মেয়ে মাঝে মধ্যে এই আইডি থেকে ফেসবুক চালাতেন।