শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ | ০৬ অক্টোবর, ২০১৬
১জন দর্শক বসে আছেন চেয়ারে। তার পাশে আছেন আরো ৩ জন। প্রজেক্টরের মাধ্যমে পর্দায় দেখানো হচ্ছে ‘রোকেয়া’ নামের প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। এই চিত্র হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রামাণ্য উৎসবের।
গত ২ অক্টোবর থেকে হবিগঞ্জসহ সারাদেশে ৭ দিন ব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়েছে। এর ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমী।
হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী ভবনের একটি কক্ষে নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় এ উৎসব চলছে। বুধবার সন্ধ্যায় একাডেমি ভবনে ওই কক্ষে গিয়ে যে ৪ জনকে পাওয়া যায় এদের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে দর্শক ছিলেন একজন। বাকি ২জন শিল্পকলা একাডেমীর ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও অপরজন অপারেটর।
প্রায় ১ ঘণ্টা বসেও শিল্পকলা একাডেমীর কোনো কর্মকর্তাকে সেখানে দেখা যায়নি। চলচ্চিত্র উৎসবের দর্শক শূণ্যতা বিষয়ে জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। খোজ নিয়ে যায়, জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তও তখন শিল্পকলা একাডেমীর বাইরে অবস্থান করছিলেন ব্যক্তিগত কাজে। দর্শক শূন্য এই উৎসব নিয়ে শুনা যাচ্ছে নানা অভিযোগ।জানা গেছে কালচারাল অফিসার অসিত দাশ গুপ্ত কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মীর গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। ওই কর্মীদের পরামর্শ ছাড়া তিনি এক পা বাড়ান না। ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানা সংকটের আশংকা রয়েছে।
উৎসবে দর্শক শূন্যতার ব্যাপারে বর্ণমালা খেলাঘর আসর হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক দিপুল রায় বলেন, এ উৎসবে আমাদেরকে কোনো দাওয়াত দেয়া হয়নি। আমাদের সংগঠনে অনেক শিশু শিল্পী আছে। আমরা জানলে আমাদের সদস্যদের নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারতাম। উৎসব মানে মিলন। এ উৎসবে হবিগঞ্জের সকল সাংস্কৃতিক কর্মীদের একত্রিত হওয়াটাই হল সার্থকতা। যেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমী।
দেশব্যাপী আলোচিত এমন একটি চলচ্চিত্র উৎসবের এ চিত্র কেন? দর্শক শূণ্যতার বিষয়ে এমন প্রশ্ন রেখে নাট্যকার সিদ্দিকি হারুন বলেন, এমন একটি উৎসবের ব্যাপক প্রচারণা দরকার ছিল। মাইকিং, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্কুল, কলেজ বা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সমন্বয় করা হয়নি। সরকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় হয়তো কোনো দায় নেই । প্রকৃত দর্শক দেখল কি না তারও কোন দায় নেই কর্তৃপক্ষের। শুধুই আনুষ্ঠানিকতা এবং দায়সারা মাত্র ।
এ বিষয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক খোয়াই থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন খান বলেন, এত বড় একটি উৎসব। অথচ কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন বা কোনো সাংস্কৃতিক কর্মীকে জানানো হয়নি। শিল্পকলার অডিটোরিয়ামের পরিবর্তে একটি রুমের ভেতরে তারা উৎসব করছে। সর্বোপরি এখানে একটি বাজেটের ব্যাপার আছে। দীর্ঘদিন যাবত জেলা শিল্পকলার কোনো কমিটি নেই। সে জন্য কোনো শৃঙ্খলা নেই জেলা শিল্পকলার একাডেমীর কোনো অনুষ্ঠানে। আশা করছি সত্যিকারের সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর নতুন কমিটি হবে। সাংস্কৃতিক কর্মীদের পদচারনায় মুখরিত হবে জেলা শিল্পকলা একাডেমী।
উৎসব সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি জানিয়ে নৃত্যভূমির সভাপতি সুজন চৌধুরী বলেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমী হয়তো তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ তাই তাদের কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠনকে আমন্ত্রণ দিতে মনে করেনা।
এ ব্যাপারে জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরন দাশ গুপ্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন উৎসবের ব্যাপারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে। তার এ কথা যে মিথ্যে এর প্রমাণ হচ্ছে দৈনিক প্রভাকর এর সম্পাদক শোয়েব চৌধুরী বলেন দাওয়াত সংক্রান্ত কোন চিঠি তার কাছে পৌঁছেনি। অসিত বরণ দাশ গুপ্ত গতকালের দুটি শো‘র একটিতেও উপস্থিত ছিলেন না স্বীকার করে বলেন,‘উৎসবে কেন সাড়া নেই তা বুঝতে পারছিনা’। তিনি আরো জানান যে, উৎসবের জন্য আলাদা কোন অর্থ বরাদ্দ আসেনি।