তপন কুমার দাস, বড়লেখা | ১১ অক্টোবর, ২০১৬
বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাংলাবাজার ঘাট, পানিশাইল ঘাট, গুলুয়া ও ভাঘাডহরে মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে বিসর্জন ঘাটগুলোতে ভিড় করেন সনাতন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার ভক্ত অনুরাগীরা।
মহাদশমীতে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা। এদিকে দুর্গার বিদায় উপলক্ষে সকাল থেকে বিদায়ের সুর বেজে উঠে মণ্ডপে মণ্ডপে।
প্রতিমা বিসর্জনের জন্য দুপুর থেকে উপজেলার ৪টি বিসর্জন ঘাটে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ থেকে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে প্রতিমা নিয়ে আসতে থাকেন পূজারী ও ভক্তরা। ঘাটগুলোতে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন এমপি।
পৃথক পৃথক ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন উপলক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন এমপি। হুইপের পরিদর্শন শেষে একে একে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের পালা। শঙ্খ উলুধ্বনির পাশাপাশি বাদ্য ঘণ্টা বাজিয়ে একের পর এক প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়।
পৃথক এসব অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, ভাইস চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ দাস নান্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস, এপিপি গোপাল দত্ত, তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস, নিজবাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক, দাসেরবাজারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সুনীল চন্দ্র দাস, শিক্ষক মিহির রঞ্জন দাস, শিক্ষক মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক ছাত্রনেতা জিয়াউর রহমান, ডা. রূপন কান্তি দাস, আওয়ামী লীগ নেতা নিয়াজ উদ্দিন, সমাজসেবক মহিম কান্ত নাথ, ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুর, তরুণ সমাজসেবক সুপ্রিয় দাস প্রমুখ।
“দুর্গতিনাশিনী”র মোড়ক উন্মোচন : উপজেলার বাংলাবাজারে প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন এমপি দুর্গতিনাশিনী পরিষদের প্রকাশনা “দুর্গতিনাশিনী”র দশম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন।
এ বছর বড়লেখায় সর্বমোট ১৫৮ মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ১৩৫টি সার্বজনীন ও ২৩টি ব্যক্তিগত মণ্ডপে পূজা হয়েছে।