Sylhet Today 24 PRINT

গাড়ি বাঁচাতে প্রাণ গেলো চালকের : ফেসবুকে ছবি দেখে লাশ সনাক্ত করলেন ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০৮ এপ্রিল, ২০১৫

নিজের মাইক্রোবাস রক্ষায় প্রাণ হারাতে হলো চালক বিশ্বজিৎ দাস বিষুকে। নিহত বিষু বালাগঞ্জ সদরস্থ নবীনগরের মন্টু দাসের ছেলে। দুর্বৃত্তরা কৌশলে গাড়ী ভাড়া করে নিয়ে বিষুকে খুন করে নোহা ব্র্যান্ডের গাড়ীটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

সোমবার ফজরের নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লীগন হবিগঞ্জের সায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের দেউন্দি এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বিষুর লাশটি পড়ে থাকতে দেখেন। সায়েস্তাগঞ্জ থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। বিষুর লাশের ময়না তদন্ত শেষে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম হবিগঞ্জ শাখায় লাশটি হস্তান্তর করে পুলিশ।

পরে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অজ্ঞাত অবস্থায় লাশটি (দাহ না করে) সমাহিত করা হয়। সোমবার রাতে বালাগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার সায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি অজ্ঞাত লাশের ছবি ফেইসবুকে দেখতে পেয়ে নোহা গাড়ির (মাইক্রোবাস) মালিক শফিকুল ইসলাম আরক এবং স্থানীয় শ্রমিকদেরকে দেখালে তারা বিষুর লাশ শনাক্ত করেন। হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে মঙ্গলবার রাতে বিষুর লাশ বালাগঞ্জে নিয়ে আসার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, রোববা বেলা বারটার দিকে বালাগঞ্জ বাজার থেকে নোহা গাড়িটি (সিলেট-ছ ১১-০৭২১) নিয়ে গোয়ালাবাজার থেকে ট্রিপ নিয়ে যায় বিষু। ঐ দিন রাত ৮টার পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সোমবার বালাগঞ্জ থানায় জিডি করেন নোহা গাড়ির মালিক শফিকুল ইসলাম আরক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বিষুকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বিষুর মা অনিতা রানী দাস। এক ভাই এক বোনের মধ্যে বিষু ছিল পরিবারের বড় সন্তান। বিষুর একমাত্র বোন লিমা রানী দাস বিলাপ করে বলেন কেন আমার ভাইকে খুন করা হলো, আমার ভাই কি দোষ করেছিল। বিষুর বাবা মন্টু দাস এখন পুত্র শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন আমার আর কেনো অবলম্বন রইল না।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.