Sylhet Today 24 PRINT

নিহত জঙ্গি সাইফুরের মৃত মুখও দেখতে চান না মা-বাবা

তপন জ্যোতি তপু, ছাতক |  ১৩ অক্টোবর, ২০১৬

ঢাকার গাজীপুরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত ছাতকের জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলুর মৃত মুখও দেখতে চান না তার বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (১২ অক্টোবর) সকালে নিহত জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলুর নিজ বাড়ীতে সরজমিনে তার বাবা-মার সাথে আলাপকালে সাইফুর রহমান বাবলুর নাম শোনা মাত্রই তার বাবা-মা ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেন। পুত্র পিতা-মাতার মুখ উজ্জ্বল করবে এমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যে পুত্র জঙ্গি হয়ে দেশের মানুষ হত্যা করবে, মা-বাবা, দেশ, জাতি, রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষতি করবে এমন পুত্রকে পুত্র বলতে নারাজ সাইফুরের মা-বাবা।

তারা বলেন, এমন পুত্রের মৃত মুখও দেখতে চাইনা, লাশও গ্রহণ করতে চাই না। জঙ্গি তৎপরতার সাথে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তিরও দাবি জানান নিহত জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলুর বাবা-মা।

জানা যায়, নিহত জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলু ১৯৯৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের ডিংকা মনির গাতি গ্রামে হতদরিদ্র ক্ষুদ্র গরু ব্যবসায়ীর পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে। তার বাবার নাম মতিউর রহমান এবং মায়ের নাম হুসনে আরা বেগম। সাইফুর রহমান বাবলু পিতা মাতার এক মাত্র পুত্র সন্তান। এছাড়া তার দুই বোন রয়েছে। সাইফুর রহমান বাবলুই ছিল মতিউর রহমানের পরিবারের এক মাত্র শিক্ষিত ব্যক্তি ও পরিবারের বড় সন্তান।

ডিংকা মনির গাতি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় হতদরিদ্র নিহত জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলুর পরিবার। টিনের দু চালা ইকর মাটি দিয়ে বেড়া দেওয়া জরা জীর্ণ ঘরে বসবাস করেন সাইফুরের মা-বাবা ও বোনেরা। আসবাব পত্র, ফার্নিচার ও বিছানাপত্র বলতে কিছুই নেই। আছে শুধু ঘুমানোর একটি চকি, গোটা দুই বালিশ আর ময়লা যুক্ত কাঁথা। সাইফুরের বাবা এলাকা থেকে মাঝে মাঝে ২-১টি গরু কিনে তার পর তা বাজারে বিক্রয় করে যা পান তা দিয়ে চলে নিহত জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলুর পরিবার। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও নামীদামী সার্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেটে সাইফুরের লেখাপড়া করার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে এলাকার সচেতন মহলকে।

স্থানীয় গোয়াশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে শোকুরুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ২০১২ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এস.এস.সি এবং সার্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ সিলেট থেকে ২০১৪ সালে এইচ.এস.সি পাস করে মেধাবী ছাত্র নিহত জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলু।

সাইফুর নিখোঁজে আইনি আশ্রয় নেননি সাইফুরের বাবা। প্রায় তিন মাস আগে সাইফুর রহমান বাবলু নিখোঁজ হলেও আইনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি সাইফুর রহমান বাবলুর বাবা মতিউর রহমান। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ কানাঘুষার সৃষ্টি হয়েছে।

অনেকে বলেন, তিনি থানায় পুত্র নিখোঁজের ডায়েরী করতে পারতেন। কিন্তু কেন তা করেননি তা বোধগম্য নয়। তবে সাইফুরের বাবা মতিউর রহমান বলেন, তিনি পুত্র নিখোঁজের বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন।

এ যুগের নামী দামী কলেজে পড়ুয়া ছেলে হয়েও সাইফুর যখন নিখোঁজ হয় তখন তার নিকট কোন মোবাইল ফোন ছিল না বলে জানান নিহত সাইফুরের বাবা মতিউর রহমান। সাইফুরের বাবা আরও বলেন সে নিখোঁজের পর থেকে তার সাথে তাদের আর কোন যোগাযোগ হয়নি।

মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় নিহত সাইফুরের ছবি দেখে সাইফুরের মা-বাবা তার লাশ সনাক্ত করেন।

সাইফুরের প্রতিবেশী চাচা আবদাল, আব্দুল খালিক, তৈমুছ আলী, আলেয়া বেগম বলেন সাইফুর রহমান খুবই ভাল ছেলে ছিল। লেখাপড়ায়ও সে ছিল মেধাবী। কিন্তু কখন, কোথায়, কিভাবে সে জঙ্গি হল তা তারা জানেন নি। এ ধরনের জঙ্গি তৎপরতার সাথে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে জাউয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম নিহত জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলুর পিতা মতিউর রহমানকে নিজ বাড়ী থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছাতক থানা পুলিশের হেফাজতে নিয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মতিউর রহমান থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।  

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.