বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি | ১৬ অক্টোবর, ২০১৬
বিয়ানীবাজারে ৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে সকাল-সন্ধ্যা পরিবহন ধর্মঘট চলছে।
দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দেখা যায় পৌরশহরের প্রধান সড়ক ফাঁকা, অধিকাংশ দোকানপাটে ক্রেতা নেই, ব্যাংক-বীমা ও সরকারি অফিসে মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
এদিকে, ধর্মঘটের কারণে সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহনের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের। সকাল থেকে বিয়ানীবাজার বাস টার্মিনাল থেকে কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। এছাড়া যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে সিএনজি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন।
স্নাতক ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসান বলেন, ধর্মঘটের কারণে যথা সময়ে পরীক্ষায় আসতে পারি নি। আমাকে অনেক পথ হেটে কলেজে আসতে হয়েছে। আমরা এই ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহবান জানাই।
বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী লিমা বেগম বলেন, আজ (১৬ অক্টোবর) সকাল সন্ধ্যা সকাল-সন্ধ্যা পরিবহন ধর্মঘট চলছে আমার জানা নেই। কলেজে হেটে রওনা হয়েছি।
ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতির আহ্বায়ক সুমন আহমদ বলেন, ধর্মঘট আহ্বানকারীরা শহরের উত্তর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে আমাদের বেশ কয়েকটি অটোরিক্সা ভাংচুর করেছেন। বিষয়টি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ চন্দন কুমার চক্রবর্তীকে জানানো হয়েছে। ওসি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ।
শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আমান ফারুকি বলেন, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ভাংচুরের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, পরিবহন ধর্মঘট চলছে-স্বাভাবিক কারণে যানবাহন বন্ধ থাকবে। এরপরও কেউ গাড়ী চালাতে চাইলে আমাদের শ্রমিকরা তা আটকিয়ে দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, বুধবার (১২ অক্টোবর) পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিয়ানীবাজারে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা বন্ধ, রাস্তার দু’পাশে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, চারখাই-বারইগ্রাম পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, পুলিশ ডিউটিতে থাকা গাড়িকে পর্যাপ্ত জ্বালানি প্রদান, শ্রমিকদের ওপর অহেতুক পুলিশী হয়রানি বন্ধের লক্ষে ৫ দফা দাবী উত্থাপন করে। শনিবার পর্যন্ত তাদের দাবী বাস্তবায়ন না হওয়ায় রোববার সকাল-সন্ধ্যা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।