নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ নভেম্বর, ২০১৬
বাংলা পণ্ডিতদের জন্মভূমি। হাজার বছর পূর্বে বাংলার পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর জ্ঞান বিতরণে তিব্বত গিয়েছিলেন। ভারতের অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী পণ্ডিত অমর্ত্য সেন এই বাংলার সন্তান। সেই পণ্ডিতদের ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে এদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে রামপাল প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভারতীয় নাগরিক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য ক্ষমার অযোগ্য ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনকারীদের নিয়ে উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন নামের একটি সংগঠন আয়োজিত 'নাগরিকবন্ধন কর্মসূচী'তে বক্তারা এসব কথা বলেন।
এ কর্মসূচী থেকে বাংলাদেশ-ভারত পাওয়ার ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানির (বিআইপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য-কে অবিলম্বে 'রামপাল প্রকল্প' সমেত বিতাড়িত করার দাবি জানানো হয়। মঙ্গলবার বিকাল ৪ ঘটিকায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সম্মুখে ঘন্টাব্যাপী এই নাগরিকবন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়- ভারতীয় নাগরিক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য বাংলাদেশের মাটিতে বসে সম্প্রতি জাতীয় একটি দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সুন্দরবন বাঁচানোর আন্দোলনে সম্পৃক্ত বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের ‘এতো পণ্ডিত’ বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন। যা সম্পূর্ণরূপে শিষ্টাচার বহির্ভূত ও দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরোধী।
সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন-এর সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম-এর সভাপতিত্বে নাগরিকবন্ধন কর্মসূচী পালনকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ ও প্রাণী বিজ্ঞানী। রামপালবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের অনেকে বাংলাদেশে তো বটেই, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও খ্যাতিমান এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব।
বক্তারা আরও বলেন, উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য- ভারতীয় নাগরিক, ভারত নিযুক্ত কর্মচারী, বাংলাদেশেরও একজন কর্মচারী তিনি- এর বেশি কিছু নন। এরকম একজন কর্মচারী, বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্মানিত মানুষদের নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলবেন, অসম্মান করবেন আর তা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিনা প্রতিবাদে ছেড়ে দেয়া হবে? আমরা কী এতোই আত্মমর্যাদাহীন হয়ে পড়েছি?
বক্তারা প্রশ্ন করেন, এমন ঘটনা কি পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে ঘটা সম্ভব? বাংলাদেশের কোনো নাগরিক ভারতে গিয়ে সেদেশের সম্মানিত দূরের কথা, কোনো একজন নাগরিককে অসম্মান করে কথা বললে, ভারত সরকারের ও সে দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়া কী হতো?'
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল করিম কিম বলেন, উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্যের ধৃষ্টতার কারণে ভারতের সাথে আমাদের বন্ধুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দেখিনি। সরকার এখন পর্যন্ত নীরব। কিন্তু সবার পক্ষে নীরব থাকা সম্ভব নয়, উজ্জ্বল কান্তির ধৃষ্টতায় আমরা সংক্ষুব্ধ। তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে এই ভারতীয় কর্মচারীকে অনভিপ্রেত বক্তব্যের জন্য জাতীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বাংলাদেশ থেকে অবিলম্বে উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য-কে 'রামপাল প্রকল্প' সমেত বিতাড়িত করার দাবি জানান।
নাগরিকবন্ধন কর্মসূচীতে অন্যান্যের বক্তব্য রাখেন দেবাশীষ দেবু, উদীচী সিলেট-এর ইন্দ্রাণী সেন, সবুজ সিলেট-এর বার্তা সম্পাদক ছামির মাহমুদ, ভূমিসন্তান বাংলাদেশ-এর আশরাফুল ইসলাম, সারী বাঁচাও আন্দোলন-এর আব্দুল হাই আল হাদী, বাউল শিল্পী বশির উদ্দিন সরকার, চিত্রশিল্পী সত্যজিৎ চক্রবর্তী, গণসঙ্গীত শিল্পী অরূপ বাউল, ক্ষ্যাপা তারুণ্য-এর আহবায়ক মহসিন আহমদ মুহিন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর বদরুল ইসলাম চৌধুরী ও সুপ্রজিৎ তালুকদার, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট শাখার সভাপতি দীপঙ্কর দাশ গুপ্ত, সামাজিক সংগঠন নিনাই সভাপতি ডাঃ তায়েফ আহমদ চৌধুরী, সামাজিক সংগঠক আমীন তাহমিদ, বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদ 'চতুষ্টয়'-এর প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক শাহ শরিফুদ্দিন প্রমুখ।