ছাতক প্রতিনিধি | ০৩ নভেম্বর, ২০১৬
সুনামগঞ্জের ছাতকে মসজিদের সামনে আতশবাজির অভিযোগে দুটি মন্দিরে হামলার ঘটনা সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে শহরের মন্ডলীভোগস্থ সুরমা অটোমেটিক রাইস মিলে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের এক সমঝোতা বৈঠকে বিষয়টি নিস্পত্তি করা হয়।
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবরু মিয়া তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠকে ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, ছাতক ডিগ্রী-অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ মঈন উদ্দিন আহমদ, ব্যবসায়ি হাজী হেলাল উদ্দিন, হাজী ইসহাক আলী, গনেশপুর মাদ্রসার মহতমীম মাও. আব্দুল হান্নান, অধ্যক্ষ মাও. আব্দুল আহাদ, মাও. আলী আজগর খান, মাও. ফজলুর রহমান, মাও. নুরুল হক, মাও. আব্দুর রহিম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এড. পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, পৌর শাখার সভাপতি মহন্ত রায়, উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক প্রকৌশলী রবীন্দ্র কুমার দাস, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হরিদাস রায়, সাধারন সম্পাদক বাবুল পাল, সাবেক চেয়ারম্যান লায়েক মিয়া, মহাপ্রভু আখড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ চক্রবর্ত্তী, ব্যবসায়ি হাজী মখলিছুর রহমান মুকুল, সৈয়দ আহমদ, ডাঃ আফসার উদ্দিন, খলিলুর রহমান মানিক, ইসলামীক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাও. জয়নাল আবেদীন, ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ হারুন-অর রশীদ, পৌরসভার প্যানেল মেয়র তাপস চৌধুরী, ব্যবসায়ি হাজী রহমত আলী, সামছুল ইসলাম, শাহীন চৌধুরী, আব্দুল বারি চপল, ক্রিড়া সংস্থার সেক্রেটারী লাল মিয়া, পৌর কাউন্সিলর নওশাদ মিয়া, জসিম উদ্দিন সুমেন, দেলোয়ার হোসেন, ধন মিয়া, সুদীপ দে, কালীবাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অরুন দাস, সাধারন সম্পাদক স্বপন পাল, মহাপ্রভু আখড়া পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক নিতাই রায়, ব্যবসায়ি সামছুদ্দিন মিয়া, বাবুল রায়, সাব্বির আহমদ, চম্পু দত্ত, দীপক কুমার দাসসহ উভয় সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
পরে একই লক্ষ্যে দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথেও উভয় সম্প্রদায়ের লোকজনের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, সহকারী কমিশনার(ভুমি) শেখ হাফিজুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী(বিদ্যুৎ) স্বাগত সরকার, উপজেলা প্রকৌশলী সমরেন্দ্র দাস তালুকদার, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা খালেদ কনক, সাব-রেজিষ্ট্রার শাহ নেওয়াজ খান, ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বিজিত রঞ্জন করসহ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বক্তারা মসজিদের সামনে আতশবাজী ও মন্দিরে হামলার ঘটনা দুটিকে বিচ্ছিন্ন ও অনাকাংখিত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি কোন সাম্প্রদায়িক সমস্যা ছিল না। উভয় সম্প্রদায়ের কতিপয় লোক এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। উদ্ভুত এ পরিস্থিতির জন্য উভয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ দুঃখ প্রকাশ করেন।
ছাতকে সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রশাসন, ইমাম, পুরোহিত, মসজিদ কমিটি, মন্দির কমিটি ও উভয় সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য লোকজনদের সমন্বয়ে শনিবার একটি সমাবেশ করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।