মাধবপুর প্রতিনিধি | ০৭ নভেম্বর, ২০১৬
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ৯টি আনন্দ স্কুলের শিক্ষকরা ২১ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প আয়ের শিক্ষকদের বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অন্যদিকে স্কুলের ভাড়া পরিশোধ না করতে পেরে বাড়িওয়ালাদের লাঞ্ছনাও সহ্য করতে হচ্ছে এসব শিক্ষকদের। ভবিষ্যতে বেতন পাবেন কিনা, এ নিয়ে দোটানায় রয়েছেন তাঁরা।
প্রকল্পের নির্দেশ অনুযায়ী বিধি মোতাবেক বাড়ি ভাড়া করে ঝরে পড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আনন্দ স্কুলের ন্যায় এ ৯টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৪ ইং সনের মে মাসে স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক। ২০১৪ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন ও স্কুলের ভাড়া যথারীতি প্রদান করা হয়। এরপর শিক্ষকরা আরো আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ছাত্র-ছাত্রীদের সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়। কিন্তু গত ২১ মাস ধরে শিক্ষকদের বেতন ও ঘর ভাড়া বন্ধ রাখা হয়েছে।
নোয়াপাড়া চা বাগান বিচ লাইন আনন্দ স্কুলের শিক্ষিকা শিমুল র্যালী জানান, তিনি চা শ্রমিকের সন্তান। ঝরে পড়া চা শ্রমিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২১ মাস ধরে চালিয়ে আসছেন অতি কষ্টে। বেতন ভাতা বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে এখন অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।
জানা গেছে, মাসে মাসে স্কুল মনিটরিং করেন উপজেলা সমন্বয়কারী, কিন্তু বেতন পাচ্ছেন না শিক্ষকরা। ভবিষ্যতে বেতন পাবেন- এমন নিশ্চয়তাও নেই। এ নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন শিক্ষকরা।
এ ব্যাপারে আনন্দ স্কুলের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত মে মাসে তিনি মাধবপুর উপজেলার দায়িত্ব নিয়েছেন। কি কারণে একশত স্কুলের মধ্যে ৯টি স্কুলের বেতন ও ভাড়া আটকে আছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি।
তিনি জানান, পূর্বের মনিটরিং রিপোর্টে এসব স্কুলের তথ্যগত কোনো ত্রুটি কিংবা অনিয়মের কথা উল্লেখ থাকলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অসন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষকদের বেতন ও ভাড়া বন্ধ করতে পারেন।
উপজেলা সমন্বয়কারী বলেন, শিক্ষকরা বেতন-ভাড়া না পেয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে বকেয়া পরিশোধের জন্য দু'দফা সুপারিশ করা হয়েছে।
যেসব স্কুলের শিক্ষকদের বেতন ও ভাড়া বন্ধ রয়েছে সেগুলো হলো- উত্তর হালুয়াপাড়া, আন্দিউড়া পশ্চিমপাড়া, সুরমা চা বাগান, তেলিয়াপাড়া চা বাগান নতুন টিলা, মাহজিল, নোয়াপাড়া চা বাগান বিচ লাইন, বেঙ্গাডোবা-২, ইটাখোলা, বুল্লা আনন্দ স্কুল।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রিচিং অডিট অব স্কুল চিল্ড্রেন (রস্ক ফেইজ-২) প্রকল্প পরিচালক বরাবরে মানবিক আবেদন করেছেন। সংসদ সদস্য, হবিগঞ্জ-৪, মাধবপুর-চুনারুঘাট নির্বাচনী এলাকা, জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবপুর, উপজেলা চেয়ারম্যান মাধবপুরকে অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে।