শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ০৮ নভেম্বর, ২০১৬
সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন, মন্দির ভাঙচুর ও বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগের প্রতিবাদে ও এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, তরুন সনাতনী সংঘ (টি,এস,এস) শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গল পৌর শাখাসহ অন্তত ১৫টি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা চত্বরের সামনে এ কর্মসুচি পালন করা হয়।
মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও হিন্দুদের মন্দির, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এই দেশে সব ধর্মের মানুষের বসবাসের অধিকার রয়েছে। তাহলে কেন সব সময় এই দেশের হিন্দুদের নির্যাতন, নিপীড়ন ও মন্দিরের হামলা করে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়?
বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী ছায়েদুল হকের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদানের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ছায়েদুল হকের মন্ত্রীত্ব বাতিল ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। সেই সাথে প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তুলেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি অসাম্প্রদায়িক দল এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা খুব দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার রসরাজ দাস নামের এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ এনে নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের তিন শতাধিক বাড়িঘরে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। মন্দিরসহ বাড়িঘরে হামলার পাঁচ দিনের মাথায় পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই শুক্রবার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘরে আবারও আগুন দেওয়া হয়।