মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ | ১২ নভেম্বর, ২০১৬
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরনের নামে চলছে হরিলুট। সংশ্লিষ্ট স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কারন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেটগুলো। উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ফি আদায়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না। এই অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র এবং বোর্ড ফি মিলিয়ে এসএসসির ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগে ২০০০ টাকা ও মানবিকসহ অন্যান্য সকল বিভাগে ১৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নবীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৩৫ টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্টানের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করবে। এর মধ্যে স্কুল ১৮ ও মাদ্রাসা ১৭টি রয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোচিং, স্কাউট, বিদ্যুৎ বিল, দালান উন্নয়ন, পাঠাগার, রশিদ, ক্রীড়া, শিক্ষক কল্যাণ ফান্ডসহ বিভিন্ন কারন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ অনিয়মকে শিক্ষার্থীরা পুকুর চুরি বলে অবহিত করেছেন।
এদিকে, নবীগঞ্জের পাশ্ববর্তী বানিয়াচংয়ের বক্তারপুর হাইস্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রতি জনের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা ফি এবং জামানতের নামে ৫ হাজার টাকাসহ মোট ৯ হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। ফলে গরীব ছাত্র-ছাত্রীরা উক্ত অতিরিক্ত ফি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবার অনেকেই তাদের ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যত শিক্ষা জীবনের কথা চিন্তা করে ধার-দেনা করে ৯ হাজার টাকা করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এতে অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন- শিক্ষকরা টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। গরীব মানুষ পরের ক্ষেতে কামলা খেটে, ভ্যান-রিকসা ঠেলে সন্তানকে লেখাপড়া করায়। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন শিক্ষকরা। তাদের চাহিদা মেটাতেই আমাদের অতিরিক্ত টাকা তুলে দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের হাতে।
শনিবার (১২ নভেম্বর) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে এক পরীক্ষার্থীর দরিদ্র ও পঙ্গু পিতা আসমান উদ্দিন কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন- “আমার ছেলেরে স্কুলের স্যাররা কইছে ৯ হাজার টাকা না দিলে তারে পরীক্ষা দিবার লাগি দিতো নায়।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘শনিবার সকালে স্কুলে ২ হাজার টাকা নিয়ে গেছিলাম, কিন্তু হেড মাষ্টার স্যার ৯ হাজার টেকার (টাকার) কম অইত নায় না বলে আমাকে তাড়িয়ে দেন।"।
এ বাপারে বক্তারপুর হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছাদেক হোসেন বলেন, "কেন্দ্র এবং বোর্ড ফি মিলিয়ে এসএসসির ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার টাকা, মানবিক ও অন্যান্য বিভাগে ১৯শত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ফি নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এ ধরনের কোন অভিযোগও আমাদের কাছে নেই।"