দেবব্রত চৌধুরী লিটন | ১২ নভেম্বর, ২০১৬
এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি, তবু দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে।
সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান হিসেবে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি নবীন অনেকের নামও আলোচিত হচ্ছে। তবে এদের সকলেই তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রের দিকে। কেন্দ্রকে সন্তুষ্ট করে দলীয় সমর্থন নিয়ে আসার জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ চৌধুরী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আনম শফিকুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।
এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে যুব লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আহমেদ আল কবীর, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী। এসব নেতারা দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী ডিসেম্বরে দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । তবে সাধারণ ভোটার নয়, কেবল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য।
স্থানীয় সরকারের ৪টি প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনে ৫ জন নারী সদস্য।
সিলেট সিটি করপোরেশন, ১৩টি উপজেলা, ৪টি পৌরসভা ও ১০৫টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৬৭ জন ভোটারকে টার্গেট করেও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন প্রার্থীদের অনেকে।
এ নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন চাইবো, দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।
দলের গ্রিণ সিগন্যাল পেলে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে জানান লুৎফুর রহমান।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আনম শফিকুল হকও মনোনয়ন চাইবেন জানিয়ে বলেন, শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন, নেত্রীর সাথে আলাপ করেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে প্রার্থী হতে বলছেন। দলের মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবো।
গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন তাঁর প্রতি আছে জানিয়ে ইকবাল চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, দলের জন্য দীর্ঘ ত্যাগের কথা বিবেচনা করে দল তাকে মূল্যায়িত করবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, নেত্রীর নির্দেশ মেনে বিগত সংসদ নির্বাচনে আমি প্রার্থী হইনি, এখনও জেলা পরিষদ নির্বাচনে নেত্রী নির্দেশ দিলে প্রার্থী হব।
এছাড়াও এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে তাদের প্রার্থীতার বিষয়টি নিশ্চিত করে দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানান।