Sylhet Today 24 PRINT

রাগীব আলী কি ফিরবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৩ নভেম্বর, ২০১৬

শিল্পপতি রাগীব আলী পুত্র আব্দুল হাইকে শনিবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর শনিবার আচমকা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দেশে ফেরেন আব্দুল হাই। দেশের ফেরার পরপরই জকিগঞ্জ সীমান্ত তাকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

আব্দুল হাইয়ের এই আচমকা দেশে ফেরায় রাগীব আলীও কি দেশে ফিরবেন এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিস্টদের অনেকের দাবি, ছেলেকে দেশে পাঠিয়ে সরকার ও প্রশাসনের মনোভাব বুঝতে চেয়েছেন রাগীব আলী।

আব্দুল হাই গ্রেপ্তার এড়াতে পারলে কিংবা গ্রেপ্তারের পরও আদালত থেকে জামিন পেয়ে গেলে রাগীব আলীও দেশে ফিরে আসতেন বলে দাবি তাদের। এই দুটোর কোনোটাই না হওয়ায় রাগীব আলীর দেশে ফেরা দীর্ঘায়িত হতে পারে বলেও মনে করেন তাঁরা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতি ও প্রতারণা করে সিলেটের দুই হাজার কোটি টাকার দেবোত্তোর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান দখলের অভিযোগে দুটি মামলায় গত ১০ আগস্ট রাগীব আলী ও তার একমাত্র ছেলে আবদুল হাইসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরোয়ানা জারির দিনই গোপনে সপরিবারে ভারত পালিয়ে যান তারা। এই জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়েই সপরিবারে ভারত পালান রাগীব আলী। এরপর নিজের মালিকানাধীন সংবাদপত্র সিলেটের ডাক'র প্রকাশক ও সম্পাদক পদে থাকাকে অবৈধ দাবি করে দায়েরকৃত একটি মামলায়ও পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে আদালত।

১০ আগস্ট পালিয়ে ভারত চলে যাওয়ার পর শনিবার দুপুরে আচমকা দেশে ফিরে আসেন রাগীবপুত্র আব্দুল হাই। জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাকে।

সন্ধ্যায় আব্দুল হাইকে সিলেটের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরু আদালতে তোলে জামিন প্রার্থণা করলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আব্দুল হাইয়ের পক্ষে মামলার জামিন শুনানিতে অংশ নেন এডভোকেট মো. মইনুল ইসলাম। এ সময় তিনি মামলার গুরুত্ব ও আব্দুল হাইয়ের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিন প্রার্থনা করলে শুনানী শেষে আদালত প্রার্থনা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আজ (রোববার) মামলার নির্ধারিত তারিখে ফের আদালতে তোলা হবে আব্দুল হাইকে। আজকেও তাঁর আইনজীবীরা জামিন প্রার্থণা করবেন বলে জানা গেছে।

তবে তিন মামলার পরোয়ানাভূক্ত আসামী হওয়ায় আব্দুল হাই সহসাই জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না বলে মনে করেন আইনজীবীরা।

আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মোশরাফ হোসেন বলেন, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ভারতের করিমগঞ্জ থেকে জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন আব্দুল হাই। ইমিগ্রেশনের চেকপোস্টে চেকআপের সময় আব্দুল হাইয়ের পরিচয় নিশ্চিত হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, সিলেটের পাঠানুটুলা এলাকার দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা-বাগান পুরোটাই । ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে ৪২২ দশমিক ৯৬ একরের বাগানটির দখল নেন রাগীব আলী।

এ ঘটনার দায়েরকৃত দুটি মামলায় গত ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান। অভিযোগপত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির ঘটনায় রাগীব আলী ও ছেলে আবদুল হাইকে আসামি করা হয়।

আর প্রতারণার অপর মামলায় রাগীব আলী, তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্ত, রাগীব আলীর আত্মীয় মৌলভীবাজারের রাজনগরের বাসিন্দা দেওয়ান মোস্তাক মজিদ, রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাই, জামাতা আবদুল কাদির ও মেয়ে রুজিনা কাদিরকে আসামি করা হয়।

এই মামলায় পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে আদালত। অপরদিকে দেবোত্তোর সম্পত্তির কথিত সেবায়েত দেওয়ান মোস্তাক মজিদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত। শনিবার এই মামলায় আব্দুল হাইকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকীরা এখনো পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির সুশেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে হাই কোর্টের আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ তারাপুর চা-বাগান রাগীব আলীর দখল করাকে প্রতারণামূলক আখ্যা দিয়ে পুরো বাগান সেবায়েত পঙ্কজগুপ্তকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এই নির্দেশনার পর গত ১৫ মে চা-বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়া ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। ২৬ বছর পর রাগীব আলীর দখলমুক্ত হয় তারাপুর চা বাগান। তবে এখনো বাগান দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করা যায়নি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.