নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ নভেম্বর, ২০১৬
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিগত সিলেট সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সাফল্যের পাল্লাও ভারি ছিলো বিএনপির।
সিলেটে স্থানীয় সরকারের এ ৪টি স্তরে বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের অনেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসন্ন সিলেটের জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয় ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি। যদিও দলগত ভাবে বিএনপির আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ নিয়ে রয়েছে সংশয়। তবে বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেয় তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছেন দলটির স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা।
আসন্ন এ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এমএ হক, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জজ কোর্টের সাবেক পিপি এডভোকেট আব্দুল গফফার, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের নাম শোনা যাচ্ছে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী হিসেবে। তবে এ ব্যাপারে এখনো ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মতো কোনরকম ঢালাও প্রচারণায় নামেননি কেউ।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমরা দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। সে অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতিও রয়েছে। দলগত ভাবে সিলেট জেলায় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিএনপির ভোটারদের সংখ্যা বেশী রয়েছে। তবে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না পেলে আমরা নির্বাচনে যেতে পারছি না।
জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জজ কোর্টের সাবেক পিপি এডভোকেট আব্দুল গফফারের কাছে জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, দলে আমার কোন মূল্যায়ন না থাকায় আমি বর্তমানে দলের সংস্পর্শে নেই। পারিবারিক ও আত্মীয় স্বজনদের চাপ রয়েছে নির্বাচন করার, সে জন্য নির্বাচন করবো।
দল নির্বাচনে সমর্থন জানালে বড় বড় প্রার্থীরা মনোনয়ন পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছি। ব্যক্তিগত ভাবে ভোটারদের বেশীর ভাগেই আমাকে চেনেন। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি আমার রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ দিলদার হোসেন সেলিম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দলগত ভাবে বিএনপি জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জালিয়াতি ও প্রশাসনিক সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা অনেকে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। দাঙ্গা হাঙ্গামার ঘটনাসহ বিভিন্ন কারচুপির ঘটনা ঘটেছে, সে কারণে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না। এর বাইরে কেউ যদি জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এটা তার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে জানান তিনি।
আগামী ডিসেম্বরে দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । তবে সাধারণ ভোটার নয়, কেবল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য।
স্থানীয় সরকারের ৪টি প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনে ৫ জন নারী সদস্য।