নবীগঞ্জ প্রতিনিধি | ২১ নভেম্বর, ২০১৬
নবীগঞ্জ উপজেলার পাঞ্জারাই গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের শশ্মানের জায়গা প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জীতেন্দ্র কুমার নাথকে সাথে নিয়ে সরজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে উক্ত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেন।
এক সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের পাঞ্জারাই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রায় ২শ বছর ধরে পাঞ্জারাই মৌজার (দাগ নং- ৪২১) ১ একর ২১ শতক শশ্মান রখম ভূমি দখলে রয়েছেন। তারা ২শ বছর ধরে ওই ভূমিতে পূজা, কীর্তনসহ তাদের সব ধর্মীয় সকল উৎসব পালন করে আসছেন।
অভিযোগে প্রকাশ, বিগত কয়েক বছর ধরে ওই ভূমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে পার্শ্ববর্তী আলা উদ্দিন, আল-আমিন, আনহার, বজলু, সজলুগংরা। প্রায় বছর খানেক পূর্বে প্রশাসন কর্তৃক স্থাপিত তাদের শশ্মান রখম ভূমির সীমানা খুঁটি হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। এরপর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপজেলা প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিলে তৎক্ষালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সীমানা নির্ধারণ করে একটি খুঁটি স্থাপন করে দিয়ে আসেন। সম্প্রতি ফের উক্ত খুঁটি তুলে ফেলে দেওয়া হয় এবং উক্ত ভূমির কিছু অংশে কয়েকটি গাছের চারা লাগিয়ে দেয় আলাউদ্দিন ও আল আমিনগংরা।
এতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়। অসহায় হয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত দরখাস্ত করেন। জেলা প্রশাসক দরখাস্তটি আমলে নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে প্রেরণ করেন এবং তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জীতেন্দ্র কুমার নাথ ঘটনাস্থলে যান এবং অভিযোগের সত্যতা পান। এ সময় থানার এস আই পলাশ চন্দ্র দাশ এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাথে ছিল। এসময় নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার নির্দেশে আলা উদ্দিনগংদের অবৈধ দখলে থাকা শশ্মানের ভূমি মুক্ত করা হয় এবং ম্যাপ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ভূমিতে সীমানা দেয়াল দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতেই নির্ধারিত সীমানায় খুঁটি স্থাপন করা হয়।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বলেন, ‘নবীগঞ্জের পাঞ্জারাই গ্রামে শশ্মানের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল স্থানীয় কিছু লোকজন। পরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জেলা প্রশাসকের বরাবরে একটি দরখাস্ত করেছিলেন। পরে জেলা প্রশাসক আমার (নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন) বরাবর অভিযোগটি পাঠান প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। এরই প্রেক্ষিতে তদন্ত করে আমি অভিযোগের সত্যতা পাই।’ তিনি বলেন, ‘আগের নির্বাহী কর্মকর্তাও এখানে এসে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এর কিছুদিন পরই অবৈধ দখলদাররা সীমানা খুঁটি তুলে ফেলে। সোমবার আবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিনে এসে ভূমি মেপে শশ্মানের জায়গার সীমানা নির্ধারন করে দিয়েছি।’