Sylhet Today 24 PRINT

‘অবহেলায়’ অনিশ্চয়তায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৩ নভেম্বর, ২০১৬

সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষিত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চারলেনে উন্নীকরণ প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
 
জানা যায়, গত মাসে চীনা রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফরকালে এই প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। তারও আগে করে রাখা হয় ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি। কিন্তু সেই চুক্তির দেড় মাস পরও কোনো অগ্রগতি নেই কাজের।

চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে চীনের সঙ্গে এই প্রকল্পের ব্যাপারে ‘কমার্শিয়াল এগ্রিমেন্ট’ না হলে ২০১৮ সালের আগে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিস্ট সূত্র।

এ বিষয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সচিব এ এন এম ছিদ্দিক বলেন, এরকম কিছু আমি জানি না। চীনা দূতাবাস থেকে আমাকে জানায়নি।

প্রকল্পের টেকনিক্যাল কমিটি এখন পর্যন্ত কোনো মিটিং করেনি স্বীকার করে তিনি বলেন, প্রকল্পে ব্যয় নিয়ে চীন বিরাট ইনডিকেশন দিয়েছে। তার বিপরীতে আমাদের প্রতিটি আইটেম যাচাই করে দেখতে হবে প্রকৃত খরচ কত হবে। যাচাই করার সময়তো দিতেই হবে। আমাদের সব কাজ বাদ দিয়ে এটা করতে হবে- এমনটা করতে পারি না।

তবে এ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিকারী চীন সরকারের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান চায়না হার্বার ইঞ্জিনিয়ার মন্ত্রণালয়ে ‘কমার্শিয়াল এগ্রিমেন্ট’ করার কোনো সাড়া না পেয়ে গত ১৭ নভেম্বর চিঠি পর্যন্ত পাঠিয়েছে।

যেখানে তারা লিখেছে, এক মাস অপেক্ষা করেও মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ফিডব্যাক পাচ্ছে না তারা। সেই চিঠিতে দেখা যায়, তাদের সঙ্গে ১৬ অক্টোবর ‘কমার্শিয়াল এগ্রিমেন্ট’  করার কথা ছিলো।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৯ অক্টোবর ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির পর এ প্রকল্প নিয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় দু’টি কমিটি করে। একটি কারিগরি সংক্রান্ত অন্যটি ‘জি টু জি’ কমিটি।

এরপর এ নিয়ে আর কোনো বৈঠকও করেনি প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সংস্থা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চীন ২০১৭ সালে যেসব প্রকল্পে অর্থ দেবে তার কমার্শিয়াল চুক্তি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে করতে হয়। শেষ মুহূর্তে এখন ৩০ নভেম্বর আসতে আর মাত্র ৮ দিন বাকি।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব বিদেশ থেকে সবেমাত্র দেশে ফিরেছেন। আর এ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সরকারের অথনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব রয়েছেন বিদেশে।

দীর্ঘদিনের দাবির এ প্রকল্পে গতি আনতে ভূমিকা রেখেছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি অর্থনীতিবিদ ড. এম এ মোমেন।

এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমলাদের অবহেলায় প্রকল্পটি স্ট্র্যাক হয়ে গেলো।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কমার্শিয়াল চুক্তি হওয়ার আগে মন্ত্রিসভা ও ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন লাগে। টেকনিক্যাল কমিটি ও জিটুজি কমিটির প্রতিবেদনের আলোকেই এটি অনুমোদিত হয়। কিন্তু বৈঠক প্রতিবেদন অনুমোদন দূরের কথা, এ দু’টি কমিটিতে কারা আছেন সেটাই জানেন না।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা সিলেট তিন থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় যাতায়াত করা যাবে। নারায়ণগঞ্জের কাচপুর সেতু থেকে সিলেট শহর পর্যন্ত ২২৬ কিলোমিটার দুই লেন সড়ককে চার লেনে উন্নীত করাই ছিলো এ প্রকল্পের কাজ।

সূত্র : বাংলানিউজ

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.