বড়লেখা প্রতিনিধি | ২৪ নভেম্বর, ২০১৬
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আবুল হোসেন আলম হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক মাসুক আহমদ (৫৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাতে শাহবাজপুর বাজার থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ধ্রুবেশ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত মাসুক আহমদ ইউনিয়নের সায়পুর গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর আ’লীগ নেতা আবুল হোসেন আলমকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করে স্থানীয় সন্ত্রাসী কাজল মিয়া। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এদিন কাজল মিয়ার দুটি বসত ঘর, একটি দোকান ভাঙচুর ও ঘরগুলোতে অগ্নিসংযোগ করেন। পরদিন (৩০ সেপ্টেম্বর) ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনসাধারণ ও বিজিবি কাজল মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। কাজল মিয়া গত ১ অক্টোবর আদালতে হত্যার সাথে তার জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে গত ২৬ অক্টোবর পুলিশ কাজল মিয়াকে আদালত থেকে ৪৮ ঘণ্টার রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কাজলের দেয়া তথ্য যাচাইবাছাই করে মাসুক আহমদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) মাসুক আহমদকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জনপ্রিয়তা ও ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রক হওয়ার আশঙ্কায় নিজ রাজনৈতিক দলীয় প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন আ’লীগ নেতা আবুল হোসেন আলম। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র আরো জানিয়েছে, মাসুক আহমদ উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির আস্থাভাজন। তাই তাকে ছাড়িয়ে নিতে ওই রাতে জনপ্রতিনিধি থানাসহ বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ করেন।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন, ‘আলম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার কাজল মিয়া রিমান্ডে থাকাকালীন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। কাজলের তথ্য ও পুলিশের তদন্তের ফলাফলের সূত্র ধরে মাসুক আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে পর্দার আড়ালের ইন্ধনদাতাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’