বানিয়াচং প্রতিনিধি | ২৭ নভেম্বর, ২০১৬
বানিয়াচং উপজেলায় শীত জেঁকে বসতে শুরু করার আগেই লেপ-তোষক বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় বেশ খুশি লেপের কারিগর ও ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে শীত মোকাবেলায় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে ভীড় করতে শুরু করেছেন।
বানিয়াচং উপজেলার গ্যানিংগঞ্জ বাজার, বড়বাজার, ৫-৬নং বাজার, আদর্শ বাজার এলাকার অধিকাংশ দোকানের কারিগররা লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। একটি লেপ তৈরিতে একজন কারিগরের সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। এভাবে একজন কারিগর দিনে গড়ে ৪ থেকে ৫টি লেপ তৈরি করে থাকেন। অনুরূপভাবে দিনে ৫ থেকে ৬টি তোষক তৈরিতেও একই সময় ব্যয় হয়। বছরের অন্য সময় বিভিন্ন কাজ করলেও শীতের এই কয়েক মাস কারিগররা লেপ তোষক বানাচ্ছেন এবং মজুরি বেশী পাওয়ার আশায় এ কাজ করছেন।
বড়বাজার এলাকার লেপ-তোষক কারিগর আকরাম ও ইনসাব আলী বলেন, সারা বছর রাজমিস্ত্রির কাজ করে থাকি। সেখানে মজুরি কম পাওয়ার কারণে সংসার চালাকে অনেক বেগ পেতে হয়। তবে মজুরি বেশী পাওয়ার কারণে শীত এলেই এই ৩-৪ মাস লেপ-তোষক বানিয়ে থাকি।
তারা আরও জানান, প্রতিটি লেপের আকারভেদে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। সারাদিনে ৪-৫টি লেপ বানাই। এতে করে এই কয়েকমাস পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলে যায়।
গ্যানিংগঞ্জ বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আউয়াল মিয়া জানান, লেপ-তোষক তৈরি করতে যেসব মালামালের প্রয়োজন হয় তার দাম এখন অনেক বেশ চড়া। সে কারণে একটি লেপ তৈরি করতে খরচ অনেক বেশী পড়ে যাচ্ছে। একটি মাঝারি সাইজের লেপ তৈরি করতে ৪ কেজি তুলার প্রয়োজন।
প্রতি কেজি তুলার দাম ১২০ টাকা। ১০ গজ কাপড়ের দাম ৩৫০ টাকা, শ্রমিক মজুরি যায় ২৫০ টাকা ও সুতার খরচ লাগে ২০-৩০ টাকা। সব মিলিয়ে একটি লেপ তৈরি করতে ১০০০ টাকা খরচ হয়। আর বিক্রি হয় ১২০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকায়।
তুলা ব্যবসায়ী ইউনুছ মিয়া জানান, শীত মৌসুমের পুরো তিন মাস কারিগররা যে হারে লেপ-তোষক, গদি তৈরিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন বছরের অন্য সময় তা হয় না। বছরের প্রায় ৮ মাস তাদের অনেকটা অলসভাবে কাটাতে হয়। ফলে কেউ কেউ আবার অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়ে পড়েন।