নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ নভেম্বর, ২০১৬
সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজা বেগম নার্গিসকে হত্যাচেষ্টা মামলার একমাত্র আসামী ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হয়েছে। সেই সাথে আগামী ৫ ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে বদরুলকে তোলা হয়। এরপর আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এর মাধ্যমে আলোচিত মামলাটির বিচার কার্য শুরু হলো।
এর আগে মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মফুর আলী আসামি বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামি বদরুলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৭ ও ৩২৬ ধারায় অভিযোগটি গঠন করেন। এসময় আদালতে আসামি বদরুলের আইনজীবী এডভোকেট সাজ্জাদ জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন না মন্জুর করে দেন।
খাদিজার পক্ষে আদালতে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট একেএম শিবলী, বর্তমান সভাপতি এডভোকেট একেএম সামিউল আলম, এডভোকেট মাহফুজুর রহমান।
এর আগে গত ১৫ নভেম্বর বদরুলের বিরুদ্ধে প্রদানকৃত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছিলেন সিলেট অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। ওইদিনই আদালতের বিচারক উম্মে সরাবন তহুরা চার্জশিট গ্রহণ শেষে বিচার শুরুর জন্য ২৯ নভেম্বর পরবর্তী কার্যদিবস ধার্য করেছিলেন।
এর আগে গত ৮ নভেম্বর খাদিজা হত্যা চেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট নগরীর শাহপরান থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর ডিগ্রি (পাসকোর্স) দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিতে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা। বিকেলে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম (২৭)। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা তাঁকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এর পর গত ৫ অক্টোবর বদরুল সিলেটের আদালতে খাদিজার ওপর হামলার দায় স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বদরুল। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আট বছর ধরে খাদিজাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন তিনি। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর ওপর হামলা চালান। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
ঘটনার দিন গুরুতর আহত অবস্থায় খাদিজাকে প্রথমে সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ৪ অক্টোবর (মঙ্গলবার) তাঁকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্কয়ার হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে পুণর্বাসন চিকিৎসার জন্য সোমবার সকালে সিআরপিতে নেয়া হয়েছে।