নবীগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৬
আজ ৬ ডিসেম্বর নবীগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হায়েনাদের কবল থেকে নবীগঞ্জকে মুক্ত করেন বাংলার সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা। তিনদিনের সম্মুখ যুদ্ধের পর সেদিন সুর্যোদয়ের কিছুক্ষণ আগে নবীগঞ্জ থানা সদর হতে পাক হানাদার বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে বিতাড়িত করে মুহুর্মুহু গুলি ও জয় বাংলা শ্লোগানের মধ্যে বীরদর্পে এগিয়ে আসে কয়েক হাজার মুক্তিকামী জনতা।
এসময় মাহবুবুর রব সাদী ও মোঃ আব্দুর রউফ এর নেতৃত্বে থানা ভবনে উত্তোলন করা হয় বাংলাদেশের পতাকা। পরে স্থানীয় ডাকবাংলো সম্মুখে হাজার হাজার জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হন প্রয়াত মাহবুবুর রব সাদী। আবেগ জড়িত কন্ঠে তিনি স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য বর্ননা করেন এবং ঐদিন বিকালে বাহিনীসহ সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা হন।
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর নবীগঞ্জ মুক্ত হওয়ার পূর্ব থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। বিভিন্ন সময় পাক বাহিনীর উপর গেরিলা হামলা চালিয়ে তাদের ভীত সন্ত্রস্থ করে রাখেন মুক্তি সেনারা। কৌশলগত কারণে নবীগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা নবীগঞ্জ থানা দখলের সিদ্ধান্ত নেন। নবীগঞ্জে পাক বাহিনীর অন্যতম ক্যাম্প নবীগঞ্জ থানাকে লক্ষ্য করে তিনদিকে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নেন। ৩ ডিসেম্বর রাত থেকে গুলি বিনিময় চলে উভয়ের মধ্যে।
মুক্তিযোদ্ধারা কৌশলগত কারনে ও আত্মরক্ষার্থে কখনো পিছু হটে আবার কখনো আক্রমন চালিয়ে পাক বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করতে থাকেন। সারাদেশে পাক বাহিনীর অবস্থান খারাপ হওয়ায় নবীগঞ্জেও তাদের খাদ্য এবং রসদ সরবরাহ কমে যায়।
অন্যদিকে মুক্তিবাহিনী একেক সময়ে একেক দিক দিয়ে আক্রমন চালিয়ে যান। ৪ ডিসেম্বর রাতে থানা ভবনের উত্তর দিকে রাজনগর গ্রামের নিকট থেকে মুক্তিযোদ্ধা রশিদ বাহিনী পাক বাহিনীর উপর প্রচন্ড বেগে আক্রমন চালায়। এ যুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর কিশোর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা ধ্রুব শহীদ হন এবং বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন।
পরদিন ৫ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের পাশে চরগাঁও ও রাজাবাদ গ্রামের মধ্যবর্তী শাখা বরাক নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবস্থান নেন। প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপী গুলিবিনিময় ও প্রচন্ড যুদ্ধের পর শত্রু বাহিনী পালিয়ে যায়।
পরদিন ৬ ডিসেম্বর ভোররাতে পাক বাহিনীর নিকট থেকে কোনো বাধা না আসায় মুক্তিবাহিনী বীরদর্পে জয়বাংলা শ্লোগানের মধ্য দিয়ে থানা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে দখল করে নেন এবং বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে নবীগঞ্জ উপজেলাকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা করেন।