Sylhet Today 24 PRINT

মিডিয়ার সামনে কথা বলার আগ্রহ বদরুলের!

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

‘মিডিয়ার সামনে আমার অনেক কথা আছে, আপনারা আমার সামনে আসুন।’- সোমবার আদালত থেকে বের হয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার করে এমনটি বলতে থাকেন খাদিজার উপর হামলা মামলার আসামী বদরুল আলম। এসময় বদরুলের সাথে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে শান্ত করেন।

সোমবার সকালে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বদরুল আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। দুপুরে তাকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

সিলেট মহানগর মুখ্য হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় সোমবার। প্রথমদিনে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

সোমবার প্রথমদিনে সিলেট এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, আহত অবস্থায় খাদিজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য প্রদান করেন।

সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে গত ৩ অক্টোবর এমসি কলেজ ক্যাম্পাসেই চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। স্নাতক পরীক্ষা দিতে এমসি কলেজ গিয়েছিলেন খাদিজা।

আগামী ১১ ডিসেম্বর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। পরবর্তী তারিখে বাকী ১৯ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। এ মামলায় সাক্ষী মোট ৩৭ জন। এর বাইরে মামলার বাদীও সাক্ষ্য দেবেন। মামলার চার্জশিটে দ্বিতীয় সাক্ষী হচ্ছেন খাদিজা বেগম নার্গিস।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বদরুল আলমের আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ৩ অক্টোবর বদরুলকে কেউ নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে দিয়েছিলো। ফলে ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলো।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিলেটের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, প্রথমদিনে আমরা বদরুলের অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছি। আশা করছি তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।

গত ২৯ নভেম্বর বদরুল আলমকে অভিযুক্ত করে এই মামলার অভিযোগপত্র গঠন করা হয়।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদিজার ওপর হামলার পর মামলা হওয়ার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় শাহপরান থানার উপ-পরিদর্শক হারুনুর রশিদ গত ৮ নভেম্বর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করেন। ১৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্রের শুনানি শেষে তা গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর খাদিজাকে কোপানোর পর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম (২৭)-কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন অন্য শিক্ষার্থীরা। এরপর আদালতে খাদিজার ওপর হামলার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন বদরুল।

ঘটনার দিন গুরুতর আহত অবস্থায় খাদিজাকে প্রথমে সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পর দিন তাঁকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠার পর সম্প্রতি স্কয়ার থেকে সিআরপিতে নেওয়া হয় খাদিজাকে।

অভিযুক্ত বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে। বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে। পরে স্থায়ী বহিষ্কার করে। খাদিজার বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামে। তাঁর বাবা মাসুক মিয়া সৌদিপ্রবাসী।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.