হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৬
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যদের হবিগঞ্জ ত্যাগ করতে বাধ্য করে। সেদিনই মুক্ত হয় হবিগঞ্জ জেলা। তাই ৬ ডিসেম্বরকে হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
তবে স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও হবিগঞ্জের অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তাদের দাবি, রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ চাই এবং জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হউক।
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় তেলিয়াপাড়া ডাকবাংলো থেকে সারা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর বিভক্ত করা হয়। ৩নং সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন মেজর শফিউল্লাহ। শফিউল্লাহর নেতৃত্বে হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকার দুর্গম অঞ্চলগুলোতে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ডিসেম্বরের শুরুতে মুক্তিবাহিনী জেলা শহরের কাছাকাছি এসে পৌঁছলে তিন দিক থেকে মুক্তিবাহিনী আক্রমণ করে।
৫ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে এবং ৬ ডিসেম্বর ভোর রাতে পাকিস্তানি সেনাসহ রাজাকাররা আত্মসমর্পণ করে। পরে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতা মো. শাহজাহান মিয়াসহ মুক্তিযোদ্ধারা হবিগঞ্জ সদর থানা কম্পাউন্ডে বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। মুক্তিযুদ্ধে জেলার ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। যুদ্ধে আহত হন ৩৭ জন মুক্তিযোদ্ধা।
এসব শহীদদের জন্য তেলিয়াপাড়া, ফয়জাবাদ, কৃষ্ণপুর, নলুয়া চা বাগান, বদলপুর, মাখালকান্দিতে বধ্যভূমি নির্মিত হয়।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস শহীদ বলেন, ৬ ডিসেম্বর ভোরে আমরা একত্রিত হয়ে সমস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে হবিগঞ্জ জেলা মুক্ত করে বিজয় উল্লাস করি। এরপর শহরের থানা প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন স্থানে পতাকা উত্তোলন করে হবিগঞ্জ জেলাকে শত্রুমুক্ত করি।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর একটাই দাবি, রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই।
মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মর্ত্তুজা বলেন, জীবন বাজি নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল কিন্তু আমাদের সামনে এখনও অনেক রাজাকার আলবদর ঘোরাফেরা করছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকারের কাছে দাবি রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ চাই। পাশাপাশি জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে সরকার আইন করতে হবে। রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ পেলে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন রাষ্ট্র পাব।
হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের কমান্ডার অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী পাঠান বলেন, যেসব যুদ্ধাপরাধীদের এখনও বিচার হয়নি, তাদের অবিলম্বে বিচার কাজ শেষ করতে হবে।
এদিকে মুক্ত দিবস উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।