নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬
নির্মানের পর থেকেই সিলেটের কাজিরবাজার সেতু কেবল নদী পারপারের মাধ্যম হয়ে থাকে নি, হয়ে ওঠেছে নগরবাসীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। বিকেল থেকে রাত অবদি নগরীর অনেকে একটু নির্মল বাতাস আর আড্ডার জন্যে জড়ো হন সেতুর উপর।
মানুষের ভিড়কে উপজীব্য করে বিকেল হলেই এই সেতুতে বসে অসংখ্য ভাসমান দোকান। চা, চটপটি, ফুচকা, সিগারেটের এসব দোকানে ব্যবহৃত হয় কাঠ-কেরসিনের চুলা, গ্যাস সিলিন্ডার, কিংবা সেলো ইঞ্জিন। সেতুর উপর পার্কিং করা হয় বেড়াতে আসা মানুষদের সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, প্রাইভেটকার ও মটরসাইকেল।
সেতুর উপর এসব দাহ্য পদার্থের অবাদ ব্যবহারে কারণে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদেরর।
জানা যায়, ২০০৫ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দশ বছর পর ২০১৫ সালের অক্টেবরে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন সুরমা নদীতে নির্মিত সিলেট কাজিরবাজার সেতু। চার লেনের সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩৬৬ মিটার আর প্রস্থ ২৫ মিটার। সেতুটি নির্মানে খরচ হয় ১৪০ কোটি টাকা।
নগরীর যানজট নিরসনের জন্য নির্মিত এই সেতু নগরবাসীর কাছে বিনোদনের স্থান হিসেবেই অধিক পরিচিত। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে চার লেনের সেতুটি পরিনত হয় অনেকটা পার্কে। সেতুর উপর প্রসস্ত ফুটপাতে রয়েছে সারি সারি চেয়ার বসিয়ে ফুচকা, চটপটি, ফাষ্টফুড, চা, কফি থেকে শুরু করে পান সিগারেটের শতাধিক ভাসমান দোকান। যেগুলো বিকেল থেকে রাত ১০/১১ টা পর্যন্ত চলে।
সেতুতে বেড়াতে আসা পর্যটক নর্থইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ণ চিকিত্সক জাবেদ রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শহরে অবকাশের জন্য তেমন কোন স্থান না থাকায় আমরা বন্ধুবান্ধব এখানে আসি। সেতুর পরিবেশ সুন্দর। নদীর রাতের দৃশ্যও আমাদের মুগ্ধ করে”।
নুসরাত ফাতেমা নামের আরেক তরুণী বলেন, রিফ্রেশমেন্টের জন্য জায়গাটা অনেক ভালো। তবে, বিভিন্ন ধরণের খাবার খেয়ে প্লাস্টিক সহ ময়লা আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে, এটা মোটেও ঠিক না। এর জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।
সেতুর উপর দোকানগুলোতে দাহ্য পদার্থের ব্যবহারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন শাহজালালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পুর প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম। সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, পর্যটকদের অতিরিক্ত লোড বহনের ক্ষমতা সেতুটির থাকলেও কোন ভাবেই সেতুর উপর গাড়ি পার্কিং করা উচিত না। আর এখানে দাহ্য পদার্থ যেমন কেরসিনের চুলা, গ্যাসের চুলা কিংবা সিগারেটের দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা রীতিমতো বিরল ঘটনা। এসব দাহ্য পদার্থ থেকে কোন ধরণের বিস্ফোরন সেতুটির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে। তিনি অবিলম্বে এসব ভাসমান স্থাপনা উচ্ছেদে কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আর প্রতিদিন কয়েক হাজার লোক সেতুর উপর চাটপটি ফুচকা সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে প্লাস্টিক সহ বিভিন্ন বর্জ নদীতে ফেলায় সুরমা নদীর পানি দোষনের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখ্য করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম জানান, কাজিরবাজার সেতুতে পর্যটনের নামে যা হচ্ছে তা সুরমা নদীকে আবর্জনার ফেলার স্থানে পরিণত করছে। নদী বাঁচাতে সেতুর উপর থেকে ভাসমান দোকান সরিয়ে নেয়া জরুরী।
সেতুর উপর এমন ঘটনাকে সমর্থন না করলেও সিলেট সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম সেতুর উপর ভাসমান স্থাপনা উচ্ছেদে নিজেদের অপারগতার কথা জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অন্যান্য স্টেইকহোল্ডারদের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিকক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মূসা সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দু-একদিনের মধ্যে সেতুর উপর অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদে অভিযানে নামবে মহানগর পুলিশ। তিনি বলেন, পর্যটকদের গাড়ি পার্কিংয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সেতুর দুই পাশের এপ্রোচ সড়কে গাড়ি রেখে পর্যটকরা সেতুর ভ্রমন করতে পারেন।