নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬
সিলেট-ঢাকা রুটে যাত্রীতে পরিপূর্ণ বিমানের একটি ফ্লাইট ছবি : ফেসবুক
নানা সমস্যা সত্ত্বেও আকাশপথে সিলেট-ঢাকা রুটে যাত্রী চলাচল বেড়েছে। গত একবছরে আকাশপথে এই রুটে যাত্রী বেড়েছে প্রায় দিগুণ। সময় সাশ্রয় ও নিরাপদ ভ্রমণের জন্য যাত্রীরা এখন আকাশপথে যাতায়াতেই অধিক সাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা। সিলেট-ঢাকা রুটে আকাশপথে ভাড়া কমার কারণেও যাত্রী বেড়েছে বলে দাবি।
জানা যায়, দেশের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক। এই সড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া যানজটে অধিক সময় ব্যয়, ভাঙাচোড়া সড়কের দুর্ভোগ জাতীয় সমস্যা তো রয়েছেই। অপরদিকে, ট্রেনের ক্ষেত্রে রয়েছে সিডিউল নিয়ে অনিশ্চয়তা ও টিকিট প্রাপ্তি নিয়ে ভোগান্তি। এসব সমস্যায় বাস ও ট্রেনের বদলে উড়োজাহাজে চলাচল এখন অধিক আগ্রহী সিলেটের সামর্থবান যাত্রীরা। মানুষের আয় বাড়াকেও আকাশপথে যাত্রী বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংশ্লিস্টরা।
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪টি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এরমধ্যে ২টি ফ্লাইট বাংলাদেশ বিমানের আর বাকী দুটি বেসরকারী এয়ারলাইন্সের। গত এক বছরে সরকারী-বেসরকারী সকল এয়ারলাইন্সেরই যাত্রী বেড়েছে।
তবে যাত্রী বাড়লেও যাত্রীসেবার মান তেমন বাড়েনি বলে দাবি যাত্রীদের। আর সিলেট-ঢাকা রুটে সন্ধ্যাকালীন ফ্লাইট চালুর দাবি এই খাত সংশ্লিস্ট ব্যবসায়ীদের। এছাড়া সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ বিমানের সিলেট অফিস সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহে দুদিন ছাড়া অন্য পাঁচদিন সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে দুটি ফ্লাইট ঢাকায় রওয়ানা দেয়। এরমধ্যে একটি ২২৪ সিটের ও আরেকটি ১৬২ সিলেট। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে আসা ৪১৯ সিটের বোয়িং বিমানেও সিট খালি থাকা সাপেক্ষে ঢাকাগামী যাত্রী পরিবহণ করা হয়।
বিমান অফিসের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫-১৬ সালে সিলেট থেকে বিমানে প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী ঢাকায় গিয়েছেন। এরআগের বছর এই সংখ্যা ছিলো ৩০ হাজারের মতো। আর চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসেই আভ্যন্তরীন এই রুটে বিমান চড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী।
যাত্রী বেড়েছে বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলোরও। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের সিলেট অফিসের ইনচার্জ মোহাম্মদ হামিদ বিন হানিফ বলেন, অভ্যন্তরীন রুটে আকাশপথে যাত্রীর চলাচল এখন অনেক বেড়েছে। একবছরে সিলেট-ঢাকা রুটে যাত্রী প্রায় দিগুণ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সান্ধ্যকালীন ফ্লাইট চালুর জন্যে আগে বেসরকারী বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিলো না। এখন অনুমতি মিলেছে। সান্ধ্যকালীন ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়ো হয়েছে।
এয়ারলাইন্সের টিকিট এজন্সিদের সংগঠন এয়ারলাইন্স ক্লাব সিলেটের সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, সিলেট-ঢাকা রুটে যাত্রী এখন অনেক বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় যাত্রীরেসবার মান বাড়েনি। তিনি বলেন, সিলেটে সান্ধ্যকালীন টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এই সময়ে কোনো ফ্লাইট নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সান্ধ্যকালীন ফ্লাইটের দাবি জানিয়েছে আসছি। এছাড়া পর্যটন এলাকা হিসেবে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাথেও সরাসরি ফ্লাইট চালু করা জরুরী।
বাংলাদেশ বিমানের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শোয়েব আহমদ বলেন, নিরাপদ ও সময়সাশ্রয়ী হওয়ায় সিলেট থেকে আকাশপথে যাত্রীর চলাচল বেড়েছে। গত এক বছরে এই রুটে বিমানের যাত্রী প্রায় দিগুণ বেড়েছে। সেবার মান বৃদ্ধি, ভাড়া কমানোর ও মানুষের আয় বৃদ্ধির কারণেও যাত্রী বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া প্রবাসীবহুল অঞ্চল হওয়ায় অনেক প্রবাসীও আকাশপথে চলাচলে সাচ্ছন্ধ্যবোধ করেন। সর্বনিম্ন ২৫ শ’ টাকা ভাড়ায় বিমানে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
শোয়েব আহমদ বলেন, আগে উড়োজাহাজ সঙ্কট ছিলো। এখন তা নেই। ফলে সান্ধ্যাকালীন ফ্লাইট চালুর বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। এছাড়া সিলেট থেকে চ্ট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টিও পরিকল্পনাধীন আছে।