সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬
সার্টিফিকেট জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব) কে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদল। জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত সুপারিশ বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রেরণ করা হয়। অবগতির জন্য জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে এই সুপারিশের অনুলিপি দেয়া হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি ও সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সমন্বয়ক মাহবুবুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এইচএসসি, স্নাতক ও আইন বিভাগের সার্টিফিকেট জাল করার। এমনকি তিনি সিলেট ল’কলেজে ভর্তি হয়ে প্রায় ১৮ বছর পূর্বে ছাত্রদলের হয়ে নির্বাচনেও অংশ নেন। বিপুল ভোটে বিজয়ীও হয়ে ভিপি নির্বাচিত হন।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ও মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, মাহবুবুল হকের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে প্রেরণকৃত বহিষ্কারের সুপারিশের অনুলিপি আমরা পেয়েছি।
সিলেট থেকে প্রেরণকৃত বহিষ্কারের সুপারিশে উল্লেখ করা হয়- গত ২ ডিসেম্বর সিলেটসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাহবুবুল হকের সার্টিফিকেট জালিয়াতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যদি মাহবুবুল হকের কাছে এসব বিষয়ের যথাযথ প্রমাণাদি থাকে তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হল। সংবাদ প্রকাশের পর দেশ বিদেশে ছাত্রদল সম্পর্কে নানাবিধ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এমনকি সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলসহ বিভিন্ন উপজেলা,কলেজ পর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে লজ্জা ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। এমতাবস্থায় মাহবুবুল হক একজন জাল সার্টিফিকেট ও ভূয়া তথ্যদানকারী এবং পদলোভী ব্যক্তির কারণে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে।
সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ‘জাল সার্টিফিকেটধারী’ মাহবুবুল হকের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান করা হয়।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ছাত্রদল নেতা মাহবুবুল হক চৌধুরী ১৯৯৪ সালে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। তার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দিয়ে কুমিল্লা শিক্ষ বোর্ডে খোঁজ নিয়ে দলের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ জানতে পারেন ওই পরীক্ষায় তিনি ফেল করেছেন। তবে ফেল করেও তিনি নিজেকে ১৯৯৬ সালের স্নাতক পাশ করেছেন বলেই তখন কার সময়ে দলীয় নেতৃবৃন্দকে জানান। এরপর তিনি সবার কাছে ‘শিক্ষিত ছাত্রনেতা’ হিসেবে পরিচিতি পান, সেই সঙ্গে তাকে দল মূল্যায়নও করে। এইচএসসি ও স্নাতক পাশ না করেই ১৯৯৭-১৯৯৮ শিক্ষাবর্ষে জাল সার্টিফিকেট দিয়েই ভর্তি হন সিলেটের ল’কলেজে।