সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৬
বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের ঊষালগ্নে হানাদার পাকিস্তানিদের হাতে নিহত স্বপ্নশৌর্যদীপ্ত তরুণ প্রাণ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। জন্ম নবীগঞ্জ উপজেলার জন্তরী গ্রামে। বিস্মৃত এই শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ।
আজ (বুধবার) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদের নিজগ্রাম জন্তরী ও নবীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ত্রিমুখী সংযোগস্থলে নির্মিত এই স্মারকস্তম্ভের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান। উদ্বোধন করবেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন স্থানীয় সাংসদ এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার, শহীদের ছোটবোন প্রীতিলতা ভট্টাচার্য সহ বিশিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ। এছাড়া উপজেলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মৃতিস্মম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।
অনুদ্বৈপায়ন ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭১সনের ২৫ মার্চে পাকিস্থানিদের পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের রাতে তিনি ছিলেন জগন্নাথ ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষক হিসেবে কর্তব্যরত। ভয়াল সেই রাতে ছাত্রবাস অরক্ষিত রেখে তিনি পলায়নে উদ্যোগী ছিলেন না। রাতশেষের সকালে পাকিস্থানীরা তাঁকে খুন করে। শহীদ বুদ্ধিজীবী অভিধায় জাতীয় সম্মানে অভিষিক্ত অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য বাংলাদেশের জন্মস্মৃতির অংশ।
স্বাধীনতার পর নবীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে তাঁর গ্রাম জন্তরী পর্যন্ত রাস্তার নামকরণ করা হয়েছিল অনুদ্বৈপায়ন সড়ক। কালের গর্ভে সেটি এখন কলেজ রোড নামেই অধিক পরিচিত। এখন আর কোথাও চোখে পড়েনা না অনুদ্বৈপায়ন সড়কের ফলক। নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কর্তৃক জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকে সময়োপযোগী প্রচেষ্ঠা বলে মনে করেন শহীদ অনুদ্বৈপায়ন স্মারকগ্রন্থ সম্পাদক, সাংবাদিক উজ্জ্বল দাশ।