Sylhet Today 24 PRINT

এবার ৮ জানুয়ারি খাদিজাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

এবার আগামী ৮ জানুয়ারি কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সিলেট মহানগর মূখ্য হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো এই নির্দেশ দেন।

আজ আদালতে সাক্ষ্য দেন স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: এ ম রেজাউস সাত্তার। এই নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে ৩৩ জন সাক্ষ্য প্রদান করলেন।

এরআগে গত ১১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে খাদিজাকেও আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। তবে অসুস্থতাজনিত কারণে খাদিজা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা মাসুক মিয়া। খাদিজাকে আদালতে হাজির করার জন্য আজ মাসুক মিয়া সময় প্রার্থণা করলে আদালত ৮ জানুয়ারি পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে এদিন খাদিজাকে হাজিরের নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন এই আদালতের এপিপি মাহফুজুর রহমান।


এদিকে, আজকেও যথারীতি আদালতে হাজির করা হয় এই মামলার আসামী বদরুল আলমকে।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে খাদিজার বাবা জানান, পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তির পর থেকে খাদিজার শরীরে প্রতিদিনই বেশ কয়েকবার থেরাপি দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা খাদিজার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে বলেছেন শারীরিক অবস্থা এখন ভালো নয়। তাই আজ সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি না খাদিজা।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদিজার ওপর হামলার পর মামলা হওয়ার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় শাহপরান থানার উপপরিদর্শক হারুনুর রশিদ গত ৮ নভেম্বর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করেন। ১৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোপত্রের শুনানি শেষে তা গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হন খাদিজা। প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর সেখান থেকে ৪ অক্টোবর তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে এনে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়। স্কয়ার হাসপাতালে প্রথম দফায় খাদিজার মাথায় ও পরে হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। তার অবস্থার একটু উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। এরপর আইসিইউ থেকে এইসডিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ২৬ অক্টোবর তাকে কেবিনে নেওয়া হয়। এরপর আবারো মাথায় ও হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠার পর সম্প্রতি স্কয়ার থেকে সিআরপিতে নেওয়া হয় খাদিজাকে।

হামলার দিন ঘটনাস্থল থেকে বদরুল আলম আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। আদালতে হামলার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন বদরুল। বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে। বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে। পরে স্থায়ী বহিষ্কার করে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.