নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬
পরিবেশ কর্মী আব্দুল করিম কিমের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননকার বক্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বুধবার রাতে তাকে বাসা থেকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তবে ফেসবুকের ওই লেখার সাথে কিমের কোনো সম্পৃক্ততা না পেয়ে প্রায় ১৫ ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের পরামর্শে বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট মহানগরীর বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়াটার কিপার আব্দুল করিম কিম।
বুধবার রাত একটার দিকে নগরীর হাউজিং এস্টেটের বাসা থেকে কিমকে নিয়ে আসেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ফেসবুকে আব্দুল করিম কিমের নামে অবমাননকর বক্তব্য লেখা হয়েছে, পুলিশ সদরদপ্তর থেকে আসা এমন একটি অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাকে আনা হয়েছিলো। রাতে তাকে কতোয়ালি থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় পুলিশ বুঝতে পারে, তাকে ফাঁসানোর জন্য অন্য কেউ এমন কাজ করতে পারে।
এ ঘটনায় কিম বাদী হয়ে অজ্ঞতানামাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন জানিয়ে মোশররফ বলেন, পুলিশ দোষিকে খোঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
আব্দুল করিম কিম জানান, বুধবার রাত ১টার দিকে এক পুলিশ সদস্য মোবাইল ফোনে তাকে বাসা থেকে বের হতে বলেন। নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসা থেকে বের হতেই তাকে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা কতোয়ালি থানায় নিয়ে আসেন। থানায় আসার পর পুলিশ কর্মকর্তা একটি প্রিন্টেট কাগজ তার হাতে ধরিয়ে দেন, যাতে তার ফেসবুকের আইডি নাম ও প্রোফাইল ছবি যুক্ত এবং ধর্মীয় অবমাননাকর বক্তব্য সম্বলিত একটি স্ক্রিনশট রয়েছে।
এই স্ক্রিনশট ফেসবুকে বিভিন্ন উগ্রবাদী পেজে ব্যাপক প্রচার হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা এবিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চান। এসময় ফেসবুকে এমন কিছু লিখেননি বলে পুলিশকে জানান কিম। পরে পুলিশ সদস্যরা পাসওয়ার্ড নিয়ে তাঁর ফেসবুক আইডি খোঁজেও ধর্মীয় অবমাননকার কিছু খোঁজে পাননি।
এরপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনভর এনিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন মহানগর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের সাথেও এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেন তাঁরা। কিমকে ছাড়া- না ছাড়া নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেই মতপার্থক্য দেখা দেয়। পরে বিকাল ৪ টার দিকে থানা চত্বর থেকে বেরিয়ে আসেন কিম।
এরপর রাতে বিমানবন্দর থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন কিম। মামলার এজাহারে কিম অভিযোগ করেন, ‘ফেসবুকে আমার প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে অজ্ঞতানামা কে বা কারা ধর্ম অবমাননকার বক্তব্য প্রচার করে আমাকে ফাঁসানোর গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে।’
এ ব্যাপারে কতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার নুরুল হুদা আশরাফী বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিমকে ডেকে আনা হয়েছিলো। তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে তিনি চলে গেছেন।
আব্দুল করিম কিম বলেন, আমি পরিবেশ রক্ষাসহ বিভিন্ন নাগরিক আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত। আমার কর্মকান্ডে সংক্ষুব্দ কেউ আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমন কাজ করতে পারে।