ছাতক প্রতিনিধি | ২০ ডিসেম্বর, ২০১৬
ছাতকে ভারতীয় তীর খেলার নামে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজার-হাজার টাকার তীর খেলা চলছে। এ খেলায় চোখ বেঁধে তীর ছোঁড়ার উপর নির্ভর করছে জুয়াড়িদের টাকা পাওয়া না পাওয়ার বিষয়।
প্রায় মাস দু'য়েক ধরে প্রকাশ্যেই চলছে এ তীর খেলা নামের জুয়ার আসর। স্থানীয় লোকজন জানান, উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের বড় কাপন পয়েন্টের একটি কক্ষে প্রতিদিনই তীর খেলার নামে বসছে জুয়ার আসর। প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার তীর খেলা চলছে এখানে।
দক্ষিন বড় কাপন গ্রামের জমসিদ আলীর পুত্র আতাউর রহমান মখন নামের এক ব্যক্তি তীর খেলার আসর বসিয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয় ও এলাকার বাইরে থেকে আসা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র, যুবক, রিক্সা ও ঠেলা চালকসহ শ্রমিক শ্রেণির মানুষ সর্বনাশা এ তীর খেলায় জড়িয়ে পড়েছেন। স্থানীয় লোকজন একাধিকবার বাধা দিয়েও এ খেলা বন্ধ করতে পারছেন না।
যুব সমাজকে রক্ষার স্বার্থে এলাকার পক্ষ থেকে বিষয়টি মৌখিকভাবে অনেকবার জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অবহিত করার পর প্রায় এক মাস আগে দক্ষিন সুনামগঞ্জের পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চুরখাই গ্রামের আফিক মিয়া নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু খেলার আয়োজকদের গ্রেপ্তার না করায় এখানে তীর খেলা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুন নুর জানান, এলাকার লোকজনদের নিয়ে তিনি একাধিকবার জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খেলা বন্ধের দাবি জানিয়েও কোন ফলাফল হয়নি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের সহায়তায় এখানে সর্বনাশা তীর খেলা পরিচালনা করা হচ্ছে।
ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন জানান, তীরখেলা সম্পর্কে তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন। খেলা বন্ধে তিনি প্রশাসনের শরণাপন্ন হবেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে আতাউর রহমান মখন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তীর খেলার কোন আসর এখানে নেই। এসব খেলার সাথে তিনি জড়িতও নন।
জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নুর মিয়া জানান, প্রতিদিনই তীর খেলার আসরে পুলিশ ধাওয়া করছে। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারো শুরু হয় খেলা। তীর খেলায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু পরদিনই জামিনে বেরিয়ে এসেছে সে। খেলা বন্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।