সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৬
হামে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ১৭ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এত শিশু হাম নিয়ে এ হাসপাতালে আসায় চিকিৎসকেরাও উদ্বিগ্ন। তাঁরা জানিয়েছেন, এ হাসপাতালে গত প্রায় ১০ বছরে একসঙ্গে হামে আক্রান্ত এত শিশু ভর্তির ঘটনা এটাই প্রথম।
আক্রান্ত শিশুদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষেধক বা টিকা দেওয়ার পরও তাদের কারও হাম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শিশু ওয়ার্ড থেকে পরিচালকের দপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কারণ আক্রান্ত অন্তত দুটি শিশুকে প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছিল বলে অভিভাবকেরা জানান।
এই হাসপাতালের পঞ্চম তলার ১৯ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড শিশু ওয়ার্ড। শীতের শুরুতে সেখানে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সোমবার পর্যন্ত এক সপ্তাহে ২৬ নবজাতকসহ ৭৬টি শিশু শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ শিশু ছিল হামের রোগী। এদের বাড়ি সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে। ৫ ও ৭ বছর বয়সী দুটি শিশুর অভিভাবক বলেছেন, তাঁরা তাঁদের শিশুকে প্রতিষেধক দিয়েছিলেন। এরপরও হামে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁরা বিচলিত।
গত সোমবার দুপুরে শিশুরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রভাত রঞ্জন দে সাংবাদিকদের জানান, এ হাসপাতালে প্রতিবছর হামে আক্রান্ত এক বা দুজনকে পাওয়া যেত। গত ১০ বছর এমনই পরিস্থিতি ছিল। এবার চিত্র অন্য রকম। প্রভাত রঞ্জন দে বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন ও বিশেষ করে গরমের শেষে শীতের আগমনের সঙ্গে এ রোগ ছড়ায়। ছোঁয়াচে হওয়ায় একজন থেকে আরেকজন আক্রান্ত হয়। প্রতিষেধক দেওয়ার পরও কেউ আক্রান্ত হয়ে থাকলে বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাসপাতালের উপপরিচালক মো. মফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আক্রান্ত শিশুরা যেসব এলাকার, সেসব এলাকায় প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।’
শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা শিশু ওয়ার্ডে রেখে হলেও আলাদা ব্যবস্থায় সতর্কতার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ জন্য পরিচালকের দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।
হামে আক্রান্ত ১৭ শিশু ভর্তির তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সিলেটের সিভিল সার্জন মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘নিয়মিত প্রতিষেধক দেওয়ায় এটি তো প্রায় নির্মূল পর্যায়ে রয়েছে। ১৭ শিশু সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনে আক্রান্তদের এলাকা অনুসন্ধান করব।’
সূত্র : প্রথম আলো