বড়লেখা প্রতিনিধি | ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬
মৌলভীবাজারের বড়লেখার সাবাজপুর চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজারের গাড়ি চালক দিলীপ কর্মকারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে পিটিশন মামলা রুজু করেছেন (পিটিশন নং-৯৯/১৬) দিলীপ। আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে মামলা করায় স্বপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়ে গাড়ী চালককে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) বাগান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে অব্যাহত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগ গাড়ী চালক দিলীপের।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দিলীপ কর্মকার স্কয়ার গ্রুপের মালিকানাধীন বড়লেখার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সাবাজপুর চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার আলী আহমদের গাড়ী চালক পদে প্রায় ১০ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। বাগানের বিভিন্ন মালামাল চুরি ও ক্ষতিসাধনের প্রতিবাদ করায় জেনারেল ম্যানেজার আলী আহমদ, সহকারী ব্যবস্থাপক তামিম আহমদ, টিলা হেডক্লার্ক ফরিদুল আমীন, পাহারাদার হবিব আলী, জামাল আহমদ গংদের সাথে মনোমালিন্য চলছিল। এর জের ধরে ১৭ নভেম্বর রাত সাড়ে এগারোটায় গাড়ী চালক দিলীপ কর্মকার জেনারেল ম্যানেজারের বাংলোয় গাড়ী রেখে স্টাফ কোয়ার্টারে যাচ্ছিলেন। কোয়ার্টারের সামনে আসা মাত্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে জামাল আহমদ, ফরিদুল আমীন, হবিব আলী, তামিম আহমদ গংরা ধারালো খাসিয়া দা দিয়ে মাতাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপ দিলে দিলীপ কর্মকার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় দিলীপ কিছুটা সুস্থ্য হওয়ার পর মামলার প্রস্তুতি নিলে বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু দালালের চাপে মামলা দিতে থানায় যেতে পারেননি বলে অভিযোগ দিলীপের। পরে গাড়ী চালক দিলীপ কর্মকার বৃহস্পতিবার বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পিটিশন মামলা রুজু করেন।
সদ্য চাকরিচুত্য ও হামলার শিকার দিলীপ কর্মকার রবিবার বিকেলে বলেন, ‘চা বাগানের গাছ, চা-পাতাসহ বিভিন্ন চুরির ঘটনায় প্রতিবাদ করায় জিএম, সহকারী ব্যবস্থাপক, টিলা হেডক্লার্কেসহ আসামিদের সাথে আমার দীর্ঘদিন থেকে মনোমালিন্য চলছিল। এর জের ধরে ১৭ নেভেম্বর রাতে জিএমগংদের নির্দেশে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। আমার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ৪৫টি সেলাই দেওয়া হয়। সুস্থ্য হয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিলে কর্তৃপক্ষের চাপে মামলা দিতে পারিনি। পরে আদালতে মামলা করেছি। মামলা করায় তড়িঘড়ি করে বাগান কর্তৃপক্ষ আমাকে চাকরিচ্যুত করে স্বপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়ে মালামালসহ চা-বাগান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। বাগান থেকে বের করে দেওয়ায় এখন আমি অসহায় হয়ে পড়েছি।
মামলা ও গাড়ী চালককে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে বক্তব্য জানতে রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) সাবাজপুর চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার আলী আহমদের মোবাইল ফোনে বিকেল ৩টা ১৫ থেকে ৪টা ১০ ঘটিকা পর্যন্ত যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সহিদুর রহমান রবিবার রাত সাড়ে ৬টায় জানান, ‘গাড়ী চালককে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতের পিটিশন মামলাটি আমলে নিয়ে (পিটিশন নং-৯৯/১৬) এফআইআর করার জন্য নির্দেশের কাগজ এসে পৌঁছেছে। এফআইআর করে ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’