নিউজ ডেস্ক | ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার এনটিভি প্রতিনিধি সাংবাদিক মুহিবুর রহমান চৌধুরী তছনু সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। আশংকাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা বেগতিক দেখে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা তাঁকে রামদা দিয়ে কুপায় ও জিআই পাইপ দিয়ে এলোপাতারিভাবে আঘাত করে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ অভিযান চালায়। ঘটনার সময় স্থানীয় জনতা হামলাকারী আবুল হোসেন (২৫) কে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে অন্যান্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। অভিযানকালে পুলিশ হামলার সময় ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিক মুহিবুর রহমান চৌধুরী তছনু মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রাম কুর্শি ইউনিয়নের ফুটারমাটি গ্রাম থেকে মহাসড়কের বিজনার পাড়ে সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের কাজে যাচ্ছিলেন। এ সময় নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কের ফুটারমাটি গ্রামের প্রবেশ মুখে আসলে হঠাৎ একটি ট্রাক্টর যোগে ৫-৬ জন সন্ত্রাসী তার পথরোধ করে মোটরসাইকেলসহ তাকে চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তছনু ভাগ্যক্রমে রক্ষা পেলেও কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সন্ত্রাসীরা রামদা ও জিআই পাইপ দিয়ে তাঁর উপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের আক্রমণে তিনি তখন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার সাথে থাকা ব্যাগ থেকে একটি প্যানাসনিক এইচডি ক্যামেরা, ১টি ল্যাপটপ, ১টি ডিএসএলআর ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তছনুর আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় একই এলাকার এনাতাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের পুত্র আবুল হোসেন (২৫) কে স্থানীয় জনতা আটক করে উত্তম-মধ্যম দেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে নবীগঞ্জ থানার এসআই সুজিত চক্রবর্তী একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসলে জনতা হামলাকারী আবুল হোসেনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। অভিযানকালে পুলিশ হামলার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে লোকজন তছনুকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর অবস্থা দেখে তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বাতেন খান বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক আমাদের পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার মুল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হামলাকারীদের ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অন্যান্য হামলাকারী গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।