দোদুল খান | ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬
সিলেটসহ সারাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো জেলা পরিষদ নির্বাচন। ইলেক্টোরাল পদ্ধতির এ নির্বাচনে হাতে গোনা ভোটারদের ভোটাধিকারের ক্ষমতা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত হয়েছিলেন যে কোন জাতীয় নির্বাচনের মতোই পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সদস্য।
সিলেটের চার জেলায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক ভোটার সংখ্যা মাত্র ৪৬৮৫ জন হলেও কাছাকাছি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। কোন কোন কেন্দ্রে ভোটার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছিল বেশি। আর এ বিষয়টাকে নিরাপত্তার নামে বাড়াবাড়ি হিসেবেই অভিহিত করেছেন সিলেটের দায়িত্বশীল নাগরিকমহল।
সিলেট বিভাগের ৪ টি জেলার প্রতিটিতেই ১৫টি করে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। আর প্রতিটি কেন্দ্রেই পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনী ছাড়াও প্রতিটি এলাকাতেই মোতায়েন করা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্য।
সিলেট জেলা পরিষদে মোট ভোটার সংখ্যা ১৪৩৭। ১৫টি কেন্দ্রে এ ভোটগ্রহণের নিরাপত্তায় প্রায় ৯০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিলো বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান। এছাড়াও সর্বমোট প্রতি কেন্দ্রে ১৭ জন করে মোট ২৫৫জন আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।
সিলেটের প্রতিটি কেন্দ্রে ১ সেকশন করে বর্ডার গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিলো বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন। সার্বিক বিষয় তত্ত্বাবধানে ১৫জন ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও দায়িত্বরত ছিলেন বলে জানান তিনি।
মৌলভীবাজারে ১৫ টি কেন্দ্রে ৯৫৬ জন ভোটারের ভোটগ্রহণের জন্য ৫৫০ জন পুলিশ, ৩ প্লাটুন বিজিবি ও ২৫৫ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিলো বলে জানান মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম।
সুনামগঞ্জে ১৫ টি ভোটকেন্দ্রে ১২১৫ জন ভোটারের ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে মোট ৫২৪ জন পুলিশ, ৬ প্লাটুন বিজিবি ও ২৫৫ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিলো বলে জানান সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশীদ।
হবিগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় নির্বাচনের তেমন প্রভাব না থাকলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্যই নিয়োজিত ছিলো। হবিগঞ্জে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১০৭৭ জন।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় জানান, হবিগঞ্জে ১৫ টি কেন্দ্রে মোট ৪৫০ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত ছিলেন, এছাড়াও পর্যাপ্ত বিজিবি ও ২৫৫ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এদিকে র্যাব-৯ এর মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা এএসপি সুজন চন্দ্র সরকার জানান, সিলেটের চার জেলায় নির্বাচনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন প্রায় ৩০০ র্যাব সদস্য।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের সংখ্যার প্রায় সমান সংখ্যক আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করাকে বাড়াবাড়ি বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সিলেট এর সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ভোটার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্য বেশি, এ বিষয়টি অবশ্যই নিরাপত্তার নামে বাড়াবাড়ি। এটি ভোটারদের মনে অবশ্যই ভীতির সঞ্চার করেছে।
এছাড়াও, সাধারণ জনগণ এ নির্বাচনে ভোটার না হলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।