নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়ক সংলগ্ন লতিপুর-খিদিরপুর এলাকার মাঠে আয়োজিত তাবলীগ জামাতের সর্ববৃহৎ আয়োজন সিলেট জেলা ইজতেমা শেষ হয়েছে।
শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমার সমাপ্তি হয়।
বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত চলা এই আখেরি মোনাজাতে দেশ-বিদেশের কয়েক লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেন। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।
৩ দিনব্যাপী ইজতেমার প্রথম দুই দিনে ইজতেমা প্রাঙ্গণে ছিলো লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সমাবেশ। আর শেষ দিনে শুধু মোনাজাতে অংশ নিতে শনিবার ভোর থেকেই পায়ে হেঁটে ও বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে ইজতেমাস্থলে সমবেত হন অসংখ্য মানুষ। ইজতেমা প্রাঙ্গণে জায়গা না পেয়ে অনেকেই অবস্থান নেন স্থানীয় বাইপাস সড়ক, আশেপাশের রাস্তা ও গ্রামে। ইজতেমা প্রাঙ্গণে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকলেও বিপুলসংখ্যক নারী আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে মোনাজাতে অংশ নেন।
শুরু থেকেই ইজতেমা এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিলো পুলিশ প্রশাসন। শনিবার আখেরি মোনাজাত উপলক্ষেও নেয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা। চার স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় আখেরি মোনাজাত। জানা গেছে, মোনাজাতের পর দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা যতক্ষণ পর্যন্ত মাঠ না ছাড়বেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ অবস্থান করবে।
গত বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ সুরমার লতিপুর-খিদিরপুর এলাকার মাঠে এই ইজতেমা শুরু হয়। সর্বশেষ ১৯৮৪ সালের পর গত ৩২ বছর সিলেটে কোন ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই এবারের ইজতেমাকে ঘিরে মুসল্লিদের মাঝে ছিলো ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।