সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬
সকালে মাইকিং করে এলাকার দরিদ্র মানুষদের দুপুরে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি চুলায় বসানো হয়েছে বড় বড় ডেক। পাশে কেউ মাংস কাটছেন, কেউ মসলা বাটার কাজ করছেন। আবার কেউ কেউ চাল ধুতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে মানুষ আসতে শুরু করেছেন। তারাও রান্নাবান্নার কাজে সহযোগিতা করেন।
পরে হাজারো মানুষকে খাওয়ানো হয় সৌদি আরব থেকে পাঠানো দুম্বার মাংস দিয়ে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে শনিবার এই আয়োজন ছিল। এর উদ্যোক্তা ছিলেন উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি নিজেও রান্না-বান্না ও মানুষকে খাওয়ানোর কাজ করেন। বিকাল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত লোকজকে খাওয়ানো হয়।
সদর ইউনিয়নের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের দরিদ্র শ্রমিক আসকর আলী এসেছিলেন তিন ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিয়ে। তিনি বলেন,‘আগে কোনোদিন দুম্বার মাংস খাই নাই। সকালে মাইকে আইতে কইছে। তাই সবাইরে নিয়া আইছি। আমাদের গ্রামের আরও অনেকে আইছে।’
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন,‘এই উদ্যোগটি আমার ভালো লেগেছে। অনেক মানুষ এক সঙ্গে খেয়েছে। আসলে এই মাংস তো আসে এই গরিবদের জন্যই, কিন্তু তারা তো পায়না।’
কামরুজ্জামান জানান, উপজেলা পরিষদে প্রায় দেড়শ কেজির মতো দুম্বার মাংস এসেছিল। এগুলো কীভাবে, কার মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে দেবেন এবং এ নিয়ে ঝামেলা হতে পারে ভেবেই কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করে এই উদ্যোগ নেন তিনি। এ জন্য তাঁর নিজের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫হাজার খরচ হয়েছে।
কামরুজ্জামান বলেন,‘প্রতি বছর দুম্বার মাংস আসে। কিন্ত যারা এই মাংস পাওয়ার কথা তারা পায়না। পরে এ নিয়ে নানা কথা হয়। তাই আলাদাভাবে কাউকে না দিয়ে সবাইকে নিয়ে এক সঙ্গে খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এতে সবাই সহযোগিতা করেছেন, আবার খুশিও হয়েছেন।’