নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ জানুয়ারী, ২০১৭
ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মাধ্যমে সিলেটের তারাপুর চা বাগান দখলের মামলায় সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন রাগীব আলী।
মঙ্গলবার সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে রাগীর আলীর আইনজীবী এ আবেদন জানালে নির্ধারিত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়নি।
মঙ্গলবার এই মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের কথা ছিলো।
এদিকে, প্রতারণার মাধ্যমে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় মঙ্গলবার তিন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
আজ আদালতে সাক্ষ্য দেন- এসএম আব্দুল কাদের, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল আলম ও সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ মো. এমদাদুল হক।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১১ জানুয়ারি এই দুই মামলারই পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয় বলে জানান এপিপি মাহফুজুর রহমান।
মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি মিসবাহউদ্দিন সিরাজ, এপিপি রাশিদা সাহিদা, আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রেজাইল করিম।
এরআগে গত ৪ ডিসেম্বর আসামিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জালিয়াতি মামলায় পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ঐদিনই প্রতারণার মাধ্যমে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে স্মারক জালিয়াতি মামলায় ১৪ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের তারিখ ধার্য্য করা হয়েছিলো।
৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গার উপর তারাপুর চা বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। নব্বইয়ের দশকে জালিয়াতির মাধ্যমে এটি দখলে নেন রাগীব আলী। এ নিয়ে চলা মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে একটি রিট পিটিশনের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তারাপুরে রাগীব আলীর দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। একইসাথে রাগীব আলী গংদের বিরুদ্ধে মামলা দুটিকে সক্রিয় করার নির্দেশনাও দেন। ১০ জুলাই পিবিআই মামলার চার্জশিট দাখিল করে।
গত ১০ আগস্ট দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে ওই দিনই রাগীব আলী ও আবদুল হাই পালিয়ে ভারতে চলে যান। প্রায় তিন মাস পর গত ১৩ নভেম্বর আবদুল হাই ভারতের করিমগঞ্জ থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ হয়ে ফিরলে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। রাতে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়। এরপর গত ২৪ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জে সে দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন রাগীব আলী।