নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ জানুয়ারী, ২০১৭
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে জামিনে আজকেই কারাগার থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের বহিস্কৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। আজ বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে বলে কারাগারসংশ্লিস্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, আরিফ মুক্তি পেতে যাচ্ছেন এই সংবাদে দুপুর থেকেই সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ভিড় করেছেন গণমাধ্যমকর্মী ও আরিফের ঘনিষ্টজনেরা।
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামী হিসেবে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আরিফ। ওইদিন আদালত তাঁর জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এরপর থেকেই কারাবন্দি আছেন আরিফ। ২ বছর ৫ দিন পর আজ মুক্তি পেতে পারেন এই বিএনপি নেতা। মাঝখানে অবশ্য মায়ের অসুস্থতার কারণে ১৫ দিন প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিলো তাকে।
আরিফ মুক্তি পেতে যাচ্ছেন সে আভাস মিলেছিলো বুধবার সকালেই। এসময় সিলেট দায়রা জজ মনির আহমদ পাটেয়ারীর আদালতে আরিফুল হক চৌধুরীকে হাজির করা হয়। এসময় আসামীপক্ষ আদালতে আরিফের জামিনের কাগজপত্র প্রদর্শন করেন। আদালতও মুক্তিতে সম্মতি জানান। এরপর আরিফের মুক্তির কেবল সময়ের ব্যাপার বলে জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা।
আরিফুল হক সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এস কিবরিয়া ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বিস্ফোরণ ও হত্যা মামলারও আসামী। এই দুটি ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক মামলাসহ মোট চারটি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন আরিফুলক হক চৌধুরী।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচ জন। এ ঘটনায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুইটি মামলা করা হয়।
২০১৪ সালের গত ২১ ডিসেম্বর আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে হবিগঞ্জে আদালতে সম্পূরক চার্জশীট দেয় সিআইডি পুলিশ।
এদিকে ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলা হলে এক যুবলীগকর্মী নিহত হন।
দুটি মামলাতে আসামী করা হয়েছে আরিফকে। নির্বাচিত মেয়র হলেও এ মামলার কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়।